
বেলাল হোসেন ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৪নং বড়গাঁও ইউনিয়নের কেশুর বাড়ী এলাকায় তাঁতিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও তাঁতশিল্প পরিদর্শন করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর বড় কন্যা ডক্টর শামারুহ মির্জা। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ১২টার দিকে তিনি সেখানে যান এবং স্থানীয় তাঁতশিল্পীদের খোঁজখবর নেন।
এসময় তিনি তাঁতিদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের এলাকায় ব্র্যাক থেকে লোকজন এসে তাঁতশিল্প নিয়ে আলোচনা করেছে। আড়ংয়ের মাধ্যমে তাঁতজাত পণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁতিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আধুনিক ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে সহযোগিতা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ব্র্যাক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি এবং আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমার আব্বাকে নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের যেকোনো সমস্যা হলে ইউনিয়নের নেতাদের মাধ্যমে জানাবেন, সব কথা আমাদের কাছে পৌঁছে যাবে। তাঁতশিল্প যেন আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে বিষয়ে আমরা কাজ করতে চাই।”
কথা বলার পর ড. শামারুহ মির্জা স্থানীয় তাঁতশিল্প ঘুরে দেখেন এবং তাঁতিদের তৈরি কম্বল ক্রয় করেন। তাঁর এই উদ্যোগে স্থানীয় তাঁতিদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়।
স্থানীয় তাঁতশিল্পী শ্যামলি রানী বলেন, “একসময় এই এলাকায় তাঁতশিল্প খুব জনপ্রিয় ছিল। এখন অনেক তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না থাকায় মানুষ মাঠে-ঘাটে শ্রমিকের কাজ করতে যাচ্ছে। যদি আবার এই শিল্প চালু হয়, তাহলে গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে এবং আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “তাঁতের সুতা এখন অনেক দূর থেকে সংগ্রহ করতে হয়, দামও অনেক বেশি। ফলে খরচ বাড়ছে কিন্তু লাভ কমে যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এই শিল্প আবার আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে।”
স্থানীয়দের দাবি, একসময় কেশুর বাড়ী এলাকার শতাধিক পরিবার তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকলেও অবহেলা, কাঁচামালের সংকট ও বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ধীরে ধীরে এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে অনেক তাঁত অচল হয়ে পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে ড. শামারুহ মির্জার এই সফর ও সহযোগিতার আশ্বাস নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁতশিল্পীরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ আশরাফুল হক, ৪নং বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাহিন আলম, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রমজান আলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।