মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উপজেলা প্রেসক্লাব রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্তি ও নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন মাদারীপুরে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় গ্রাম আদালত নিয়ে আলোচনা সুন্দরবনের নদীপথে মাদকসহ অবৈধ পণ্যের নিরাপদ পাচার রুট আশাশুনিতে মাত্র ২০০ ফুট সড়কে ৩০-৪০ গর্ত।।চরম দুর্ভোগে পথচারী,দ্রুত সংস্কারের দাবি আশাশুনির বুধহাটায় ভাঙনকবলিত বাঁধ ও জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শনে এমপি রবিউল বাশার ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেসিসির মশক নিধন অভিযান: ৪ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে জরিমানা, ৫ জনের মুচলেকা শ্যামনগরে বাল্য বিয়ে বন্ধে স্কুল পর্যায়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত আশুলিয়ায় এসআই সুমনের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ চাঁদা না পেয়ে মিথ্যা সংবাদের দাবি, নেপথ্যে ঠিকাদারের চাঁদাবাজির মামলা কালিয়াকৈর হাইটেক সিটির লাখ টাকা মূল্যের তামার তার ও পাইপ চুরির ঘটনায় ৬ জন আটক   কেশবপুরে বাবার লাশ বারান্দায় রেখে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মারামারি

সুন্দরবনের নদীপথে মাদকসহ অবৈধ পণ্যের নিরাপদ পাচার রুট

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আব্দুল গফুর বিশেষ প্রতিনিধি

স্থলপথের নানা প্রতিবন্ধকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে সুন্দরবনের নদীপথকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র। ভারত থেকে নদীপথে মাদক, গরু, অস্ত্র, চোরাই মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, নিষিদ্ধ ওষুধ, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, প্রসাধনী সামগ্রী, থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে চালান ও বহনকারীরা আটক হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

তথ্যানুসন্ধানে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ভারত সীমান্তবর্তী শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী, রমজাননগর ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের একাধিক এলাকায় চোরাকারবারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্র ভারত থেকে নদীপথে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মালামাল এনে স্থানীয়ভাবে নিয়োজিত এজেন্টদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে।

 

পাচারকারীরা মাদক ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য পরিবহনে নিম্নআয়ের পেশাজীবীদের ব্যবহার করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিশেষ করে ভ্যানচালকদের অল্প সময়ে তুলনামূলক বেশি পারিশ্রমিকের প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। ফলে অভিযানকালে বাহকরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও নেপথ্যের গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে অধরা।

 

সম্প্রতি র‌্যাব-৬-এর একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২১ আগস্ট রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন পার্শ্বেখালী গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের মাদক, প্রসাধনী সামগ্রীসহ বিভিন্ন অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়। এ সময় নূরুজ্জামান নামে এক বহনকারীকে আটক করা হলেও মূল হোতা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সুন্দরবনের নদীপথ ব্যবহার করেই এসব নিষিদ্ধ ও অবৈধ মালামাল বাংলাদেশে আনা হয়েছিল।

 

মোংলা কোস্টগার্ডের মিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় বিভিন্ন অভিযানে চারটি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১ হাজার ৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলিসহ সুন্দরবনে সক্রিয় তিন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে।

 

এছাড়া ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ৫৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৪১ বোতল বিদেশি মদ, ৬১ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৪১ বোতল ভারতীয় বিয়ার, ২৮ হাজার টাকা মূল্যের ২৪ বোতল বিদেশি বিয়ার, ১৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৭৩৩ বোতল ফেনসিডিল এবং ২ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৫৬৩ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

 

গত ২৮ জুলাই নীলডুমুর ১৭ বিজিবি বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীপথকে ব্যবহার করে ভারত থেকে এসব অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসছে।

 

শ্যামনগর সীমান্তবর্তী কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে চোরাকারবারিরা রাতের আঁধারে ভারত থেকে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচার করে স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে।

 

তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী নদীপথ ও সুন্দরবনের দুর্গম চরাঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানে বারবার বাহক ও ছোট পর্যায়ের পাচারকারীরা আটক হলেও মাদক ও অবৈধ পণ্য সরবরাহের নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে চোরাকারবারি চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

 

সুন্দরবনের নদীপথে অবৈধ পণ্য পাচার বন্ধে সীমান্তবর্তী নদী, খাল ও সুন্দরবনের প্রবেশপথে নিয়মিত টহল জোরদার, সন্দেহভাজন নৌযান তল্লাশি এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাচারচক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews