মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনা মহানগরীর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন নিয়ে কেসিসি প্রশাসকের পরামর্শ সভা দুই বছর আগে খনন, ফের খাল খননে ৫১ লাখ টাকা! কেশবপুরে ‘প্রকল্প লুটের’ অভিযোগ মুন্সিগঞ্জে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ, পরে পুড়িয়ে ধ্বংস গোদাগাড়ীতে ১০০গ্রাম হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার, পলাতক ১ গোদাগাড়ীতে ৪০০ বোতল এসকাফ মাদকদ্রব্য উদ্ধার মাদারীপুরের ডাসার ইউনিয়নে উন্মুক্ত ওয়ার্ড সভায় গ্রাম আদালত নিয়ে আলোচনা  সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসকের সাথে দুই সংসদ সদস্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ জেলার উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় গাজী নজরুলের এমপি পদ সিদ্ধান্ত নিতে ইসিকে চিঠি দিচ্ছে সংসদ সচিবালয চুয়াডাঙ্গায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত ও ডিএসডি টিভি’র স্টাফ রিপোর্টার বহিষ্কার নীতিমালা লঙ্ঘন ও শৃঙ্খলাভঙ্গে চার সাংবাদিক বহিষ্কার প্রতারণা রোধে কর্তৃপক্ষের কড়া সতর্কতা

দুই বছর আগে খনন, ফের খাল খননে ৫১ লাখ টাকা! কেশবপুরে ‘প্রকল্প লুটের’ অভিযোগ

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

ছাদেক হোসেন কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের কেশবপুরে দুই বছর আগে খনন করা বাঁশবাড়িয়া খালে ফের খনন প্রকল্প গ্রহণ করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খালটি আগেই খনন করা হলেও পুনরায় একই খালে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের অর্থের বড় একটি অংশ নয়-ছয় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে বিএডিসির অর্থায়নে বাঁশবাড়িয়া খালটি খনন করা হয়। এর প্রায় দুই বছর পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবারও একই খাল খননের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধর্মপুর ব্রিজ থেকে ৩ কিলোমিটার ৩৫০ মিটার বাঁশবাড়িয়া খাল খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের ২৩ মে শুরু হয়ে ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হয়েছে বলে কাগজপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পের চেয়ারম্যান করা হয় সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. কামরুল ইসলামকে।

 

তবে প্রকল্প চেয়ারম্যান কামরুল ইসলামের দাবি, উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তাদের নির্দেশে খালটি ভেকু দিয়ে খননের কাজ করেন সাব-ঠিকাদার মোকলেছুর রহমান মুকুল। দুইটি স্কেভেটর দিয়ে মাত্র ৮ থেকে ১০ দিন, প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা করে খনন কাজ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

কামরুল ইসলামের অভিযোগ, প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী ৭৯ হাজার ৫৩৮ ঘণ্টা ভেকু দিয়ে খনন দেখিয়ে ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৬৭ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। তার দাবি, এ অর্থের বড় অংশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে।

 

সাব-ঠিকাদার মোকলেছুর রহমান মুকুলও অভিযোগের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, তাকে দুই দফায় প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, কাজের বিল হয়েছে প্রায় ২১ লাখ টাকা। বাকি টাকা উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

 

তবে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

প্রকল্প চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম আরও বলেন, কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় খালের দুই পাড়ে শ্রমিকদের মাটির কাজ এবং ৩০০টি বনজ ও ফলদ গাছ লাগানোর কথা ছিল। গাছ রোপণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪২৩ টাকা। কিন্তু বাস্তবে মাত্র ৯৫টি গাছ লাগানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রতিটি গাছের মূল্য ৫০১ টাকা ধরা হলেও সেখানে ২০ থেকে ৩০ টাকা মূল্যের ছোট গাছ লাগানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এ ছাড়া প্রকল্পে ১১৪ জন শ্রমিক দিয়ে খালের দুই পাড়ে কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিককে দিয়ে মাত্র ৮ থেকে ১০ দিন কাজ করানো হয়েছে বলে কয়েকজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান। শ্রমিকদের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি দেওয়ার কথা থাকলেও ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল খনন শেষে দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছ লাগানোর কথা থাকলেও রাস্তার পাশের খালের মুখে কিছু গাছ লাগানো হয়েছে। মেহেরপুর এলাকায় কোনো গাছ লাগানো হয়নি এবং ওই অংশে খালও খনন করা হয়নি বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। এদিকে, খালে অতিরিক্ত পানি না থাকলেও খালের কিছু অংশ খনন করা সম্ভব হয়নি—এমন কারণ দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও প্রকল্প চেয়ারম্যান ৬ লাখ ২৪ হাজার ৪০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে। এতে প্রকল্পটির সর্বশেষ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৫ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ টাকা। এরই মধ্যে খাল খননের বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলেও অফিস সূত্র জানিয়েছে। বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “২০২৩-২৪ অর্থবছরেই বাঁশবাড়িয়া খালটি খনন করা হয়েছিল। খালের গভীরতাও রয়েছে। এরপরও একই খালে আবারও খনন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে—বিষয়টি আমাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।”

 

সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মোস্তাফিজুর রহমান মুক্ত বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে বিএডিসির অর্থায়নে বাঁশবাড়িয়া খালটি খনন করা হয়েছিল। প্রকল্প চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বলেন, “দুই বছর আগে খালটি খনন করা হলেও এ বছর আবার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আমি প্রকল্প চেয়ারম্যান হলেও উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ‘নিজস্ব লোক’ হিসেবে মুকুলই খাল খননের কাজ করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী তাকে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ”সাব-ঠিকাদার মোকলেছুর রহমান মুকুল বলেন, “উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তাদের অনুরোধে আমি খালটি ভেকু দিয়ে খনন করেছি। এতে কাজের বিল হয়েছে প্রায় ২১ লাখ টাকা। অথচ আমাকে দেওয়া হয়েছে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা। বাকি টাকা উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।”

 

তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইসতিয়াক হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “খাল খননের কাজ প্রকল্প অনুযায়ী হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয়।” ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ওই খালটি খনন করা হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রকল্পের বাস্তব চিত্র নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। দুই বছর আগে খনন করা একই খালে পুনরায় প্রকল্প গ্রহণ, খননকাজের পরিমাণ, শ্রমিকের উপস্থিতি, গাছ রোপণ এবং প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব—সবকিছুই এখন তদন্তের দাবি তুলেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews