1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

সুন্দরবনের সোনালী মধুতে নতুন স্বপ্নের শুরু নিরাপত্তাহীনতা ও দস্যুমুক্ত বনের দাবি মৌয়ালদের

আবুজার গাজী, খুলনা বিভাগীয় প্রধান।
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

আবুজার গাজী, খুলনা বিভাগীয় প্রধান

 

সাতক্ষীরা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আঁধার সুন্দরবন আবারও মুখরিত হয়ে উঠেছে সোনালী মধুর সুবাসে। সাতক্ষীরা রেঞ্জ পশ্চিম বন বিভাগের আয়োজনে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘মধু আহরণ উৎসব-২০২৬’। উৎসবের আমেজ ছাপিয়ে এবারের আয়োজনে সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে উপকূলে বসবাসরত মৌয়াল ও জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়টি।

 

বুধবার সকালে এই মধু আহরণ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি। তার উপস্থিতিতে বন সংলগ্ন জনপদে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন,

“সুন্দরবনের সম্পদ যেমন মূল্যবান, তেমনি এখানে জীবন বাজি রাখা মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার। মৌয়াল ও জেলেদের নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।”

অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্পে অনুষ্ঠানস্থল এক মিলনমেলায় রূপ নেয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আনন্দঘন পরিবেশ থাকলেও উপকূলীয় মানুষের কণ্ঠে ছিল গভীর উদ্বেগ। বনের গহীনে মধু সংগ্রহ করতে যাওয়া মৌয়ালরা তাদের দীর্ঘদিনের শঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, সুন্দরবনকে কাগজে-কলমে দস্যুমুক্ত বলা হলেও বাস্তবে এখনো বিভিন্ন ছোট-বড় জলদস্যু বাহিনীর উৎপাত মাঝেমধ্যেই আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

মৌয়াল ও জেলেরা সমস্বরে দাবি জানান:

কার্যকর টহল সুন্দরবনের গহীনে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করতে হবে।

দস্যুমুক্ত ঘোষণা বনকে পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা করে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

জীবিকার সুরক্ষা মধু আহরণ মৌসুমে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বা অপহরণ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয় একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মৌয়াল বলেন, “সুন্দরবন আমাদের জীবন, কিন্তু দস্যুদের ভয় নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। আমরা জীবনের নিরাপত্তা চাই, তবেই এই সোনালী মধু ঘরে তোলা সার্থক হবে।”

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক অমোঘ সত্য—’নিরাপত্তা ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব’। বনজ সম্পদের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও নিরাপত্তার অভাবে অনেক সময় মৌয়ালরা বনের গভীরে যেতে ভয় পান, যা জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এই মৌসুমে বিপুল পরিমাণ মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মৌয়ালদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে: জীবন বাঁচাতে হবে, বন বাঁচাতে হবে এবং সর্বোপরি মানুষকে নিরাপদ রাখতে হবে।

সোনালী মধুর এই উৎসব যেন শুধু মধু আহরণের নয়, বরং সুন্দরবনের অতন্দ্র প্রহরী মৌয়ালদের অধিকার ও নিরাপত্তার এক নতুন লড়াইয়ের ডাক। সরকারের আশ্বাসের প্রতিফলন বনের গহীনে কতটা দেখা যাবে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় উপকূলবাসী।

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত