
নিজস্ব প্রতিবেদক,
দেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন উপজেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের বিশাল দূরত্বের কারণে পাম্প থেকে নির্ধারিত ‘২০০ টাকার তেল’ দিয়ে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েক হাজার ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী নজরুল ইসলাম-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও পাম্প মালিকরা।
শ্যামনগর উপজেলার আয়তন ও দূরত্বের বাস্তব চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। স্থানীয় চালকদের মতে, শ্যামনগর সদর থেকে নীলডুমুর যেতে হয় প্রায় ২৩ কিলোমিটার পথ। আবার ভেটখালী যেতে পাড়ি দিতে হয় ১৭ কিলোমিটার। উপজেলার এক মাথা থেকে অন্য মাথায় যেতে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে হয়।
ভাড়ায় চালিত এক চালক আক্ষেপ করে বলেন,
“পাম্প থেকে নিয়ম করে দিয়েছে ২০০ টাকার বেশি তেল দেবে না। কিন্তু আমাদের যে দূরত্ব, তাতে ২০০ টাকার তেলে গন্তব্যে গিয়ে ফিরে আসা সম্ভব নয়। আমরা মাঝপথে গাড়ি নিয়ে আটকে যাচ্ছি। এই নিয়ম আমাদের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।”
উপজেলায় দৈনিক পেট্রোলের চাহিদা প্রায় ৪০ হাজার লিটার থাকলেও ডিপো থেকে নামমাত্র ৮ হাজার লিটার সরবরাহ করা হচ্ছে। চারটি প্রধান পাম্প (খানপুর, বংশীপুর ও মুন্সীগঞ্জে অবস্থিত) এই বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। কিছু অসাধু চক্র ভয়ভীতি দেখিয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছে, ফলে সাধারণ চালকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
তেল সংকটের সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে ও দোকানে মজুদ করা পেট্রোল প্রতি লিটার ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চল নীলডুমুর, মুন্সীগঞ্জ, হরিনগর, ভেটখালি, কৈখালী, গাবুরা ও পদ্মপুকুরের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল। তেলের উচ্চমূল্য ও সংকটের কারণে এসব এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্বল্প আয়ের মানুষ চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, তারা বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম-এর কাছে বিশেষ আবেদন করেছেন। মালিকদের দাবি, সংসদ সদস্য যেন সরাসরি জ্বালানি ডিপোর পরিচালকের সাথে কথা বলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করেন। অন্যথায় তারা তেল আনা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা তেলের সুশৃঙ্খল বিতরণের জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কালোবাজারি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।