
শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধ।
কৈখালী ইউনিয়নে সরকারি লাইসেন্সবিহীন সার বিক্রির অভিযোগ স্থানীয় কৃষক সমাজে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, কিছু ব্যবসায়ী বৈধ অনুমোদন ছাড়া সার বিক্রি করছেন এবং এ বিষয়ে ইউনিয়নের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাস–এর সহযোগিতা রয়েছে।
কৃষকরা জানান, এই সার গুণগত মানে কম এবং বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সত্যতা যাচাই করার সময় রসিদও দেওয়া হয়নি। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এবং ফসলের উৎপাদনেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালামের উদাহরণ এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করছে। তিনি প্রায় ৪ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করছেন, কিন্তু তার চারা হঠাৎ মারা যাচ্ছে। তিনি দুই দিন ধরে দেবাশীষ কুমার দাসকে ফোন করেছেন, কিন্তু ফোন রিসিভ করা হয়নি। আব্দুস সালাম এবং অন্যান্য কৃষকরা বলছেন, “সরকার আমাদের মতো কৃষকদের কথা ভেবে কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ আমাদের সমস্যার সময় তাদের পাওয়া যায় না। যারা প্রকৃত কৃষি কাজে যুক্ত তারা কোনো সহায়তা পাচ্ছে না।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাসের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সার ও কৃষি উপকরণ বিক্রিতে ব্যক্তিগত স্বার্থে সহায়তা করেছেন এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করেছেন।
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “যদি সরকারি লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা কোন কোন দোকানে বিক্রি হচ্ছে আমাকে তথ্য দেন, আমি গ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করবো।”
কৃষক সমাজের নেতারা বলেছেন, “এ ধরনের অনিয়ম শুধু আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে না, বরং দেশের কৃষি উৎপাদনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কঠোর নজরদারি এবং স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এমন অনিয়ম বন্ধ হবে না।”
স্থানীয় প্রশাসন এবং কৃষি দপ্তরের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরকারি লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রি একটি গুরুতর অপরাধ, যা কৃষি আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। তারা আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হবে।