1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

কালিগঞ্জে এলজিইডি হিসাবরক্ষকের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল অপসারণের দাবিতে তোলপাড়

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হিসাবরক্ষক মুস্তাফিজুর রহমানের প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দাপ্তরিক টেবিলে বসেই দুজন ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের কাছ থেকে প্রকল্পের বিল পাসের বিনিময়ে গুনে গুনে টাকা নিচ্ছেন তিনি। এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর উপজেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান নিজ কক্ষে বসে চাম্পাফুল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সাইদুর রহমান ও কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কামরুজ্জামানের কাছ থেকে প্রকল্প কাজের বিল তৈরির জন্য ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ধারণকৃত এই ভিডিওটি শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর রহমান সাতক্ষীরা সদর থানার লাবসা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। ২০০৫ সালে প্রকল্পে যোগদান করলেও ২০১৩ সালে উচ্চ আদালতের রায়ে তার চাকরি স্থায়ী হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই তিনি বেপরোয়া দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সাতক্ষীরার লাবসা গ্রামে তার একটি আলিশান দ্বিতল ভবনসহ নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

 

এর আগে তালা উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন তিনি। দুর্নীতির দায়ে তাকে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলায় বদলি করা হলেও তদবিরের মাধ্যমে পুনরায় সাতক্ষীরা সদরে ফিরে আসেন। সবশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি কালিগঞ্জ এলজিইডি অফিসে যোগদান করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার জানান, নতুন কাজের চুক্তি বা কার্যাদেশ প্রস্তুত করতে মুস্তাফিজুরকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়। বরাদ্দের অংক বেশি হলে ঘুষের অংকও বেড়ে যায়। এমনকি সাধারণ মানুষ নতুন বাড়ির প্ল্যান পাস করতে গেলে তাকে শুরুতে ২০ হাজার এবং পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। টাকা না দিলে মাসের পর মাস অফিসের বারান্দায় ঘুরতে হয় সেবাগ্রহীতাদের।

 

ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন, তারা বিষয়টি সব জানেন।”

অন্যদিকে, কালিগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, “আমি ছুটিতে থাকায় বিষয়টি জানতাম না। অফিসে বসে কেউ যদি ব্যক্তিগত কোনো লেনদেন করে থাকে, তবে তার দায়ভার দপ্তর নেবে না।”

এদিকে, সরকারি অফিসে বসে প্রকাশ্যে এমন দুর্নীতির ঘটনায় অভিযুক্ত হিসাবরক্ষককে চাকরি থেকে দ্রুত অপসারণ ও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কালিগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ।

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত