
এস এম হাফিজুর রহমান হাফিজ,ঝিকরগাছা প্রতিনিধি।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা এস এম হাফিজুর রহমানের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৮টায় যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া এলাকায় মরহুমের নিজ বাড়িতে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩০ বছর প্রবাসে কাটানোর পর কফিনে বন্দি হয়ে হাফিজুরের বাড়ি ফেরায় গোটা এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সোমবার ভোররাতে হাফিজুর রহমানের লাশবাহী গাড়ি নিজ গ্রামে পৌঁছালে পরিবার ও প্রতিবেশীদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। দীর্ঘ তিন দশক ধরে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো মানুষটির এমন অকাল ও মর্মান্তিক বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না স্বজনরা। বৃদ্ধ পিতা মোহাম্মদ আলীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। মৃত্যুকালে তিনি দুই সন্তান, স্ত্রী, বৃদ্ধ পিতা ও চার ভাইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সকালে মরহুমের জানাজার নামাজে এলাকার সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। জানাজার পূর্বে ছেলের স্মৃতিচারণ করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা ও দোয়া প্রার্থনা করেন শোকাভিভূত পিতা মোহাম্মদ আলী।
উক্ত জানাজা নামাজে এলাকার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। উপস্থিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন:
বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বিএসএম আলী আকবর
বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার আনিস উর রহমান
ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম প্রিন্স সুমন
সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রবিউল ইসলাম
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বাঁকড়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মাস্টার এস এম মনিরুল ইসলাম
বাকড়া ইউনিয়ন বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান টিক্কা
ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাদিজ্জামান হাদী
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ সিরাজুল ইসলাম
ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংক, বাঁকড়া শাখার পরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ
সাংবাদিক তারিকুজ্জামান তারেক এবং সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুম হাফিজুর রহমানকে তাঁর মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। দাফন প্রক্রিয়া শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে এক বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া পরিচালনা করা হয়।
এদিকে, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় প্রবাসী পরিবারগুলোর মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকায় নেমে এসেছে নীরব স্তব্ধতা।