রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাসোয়ারার বিনিময়ে সুন্দরবনে অবাধ প্রবেশের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা কি শুধু গরিবের জন্য? কালিগঞ্জে সেনাসদস্যের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, আড়াই লাখ টাকার মালামাল লুট জনকল্যাণে রাজনীতি হতে হবে সেবা ও আদর্শের” — এমপি ইজ্জত উল্লাহ কাশিমাড়ী ইয়ুথ সোসাইটির ৭ দিনব্যাপী মানবিক কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিন: অসহায় পরিবারের পাশে সংগঠন টেকনাফে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ, তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহতের অভিযোগ সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ: নিরাপত্তা চেয়ে জিডি, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি শ্যামনগরে নদীর চর দখল করে মৎস্য ঘের তৈরির হিড়িক, ধ্বংস হচ্ছে বনায়ন সাতক্ষীরায় জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড পরিদর্শন করলেন মো. আমিনুর রহমান রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় তরুণ নেতা শাহাদত হোসেন (লাল) ১৯৭৮ থেকে বর্তমান: রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘ পথচলা

শ্যামনগরে নদীর চর দখল করে মৎস্য ঘের তৈরির হিড়িক, ধ্বংস হচ্ছে বনায়ন

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

​সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে নদীর চর দখল করে অবৈধভাবে মৎস্য ঘের তৈরির হিড়িক পড়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের এমন কর্মকাণ্ডে একদিকে যেমন সরকারি খাস জমি বেদখল হচ্ছে, অন্যদিকে নিধন করা হচ্ছে উপকূলীয় বনায়নের গাছপালা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ।

​সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পরানপুর এলাকায় (রমজাননগর-কৈখালী ব্রিজ সংলগ্ন) নদীর দুই পাশের চরের বিশাল এলাকা দখল করে ঘের তৈরির কাজ চলছে। যারা এ দখলের সঙ্গে জড়িত, তাদের অধিকাংশেরই বসবাসের জন্য নিজস্ব জমি রয়েছে। তবুও সরকারি নদীর চর দখলের নেশায় মত্ত হয়ে তারা পরিবেশ ধ্বংস করছেন। দখলদারদের দাবি, তারা নদীর চর বন্দোবস্ত নিয়ে সেখানে ঘের করছেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল সরকারি এই সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিল। বর্তমান মৌসুমে সুযোগ বুঝে তারা চরের গাছ কেটে মৎস্য ঘের তৈরির কাজ শুরু করে।

​এ বিষয়ে কৈখালী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘নদীর চর বন্দোবস্ত দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং এসব জমি কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়াও হয়নি।’

​কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, ‘কৈখালী একটি নদীবেষ্টিত ইউনিয়ন। নদীর চরে সামাজিক বনায়ন সৃষ্টির জন্য ইউনিয়ন পরিষদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি জোরপূর্বক সেই চরের গাছ কেটে বনায়ন ধ্বংস করছে, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছে।’

​তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যদি এসব দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও জেল-জরিমানার ব্যবস্থা করা হতো, তবেই এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ হতো। অন্যরাও তখন দখল করা থেকে বিরত থাকত।’

​বিষয়টি নিয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা সরকারি এই সম্পত্তি রক্ষা এবং বনায়ন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ইতিমধ্যে বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

​পরিবেশবাদীদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় নদীর চর ও ম্যানগ্রোভ বনায়ন প্রাকৃতিকভাবে দুর্যোগের ঢাল হিসেবে কাজ করে। এভাবে অবাধে দখল ও গাছ নিধন অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এলাকাটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়বে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews