
নজরুল ইসলাম খোকন
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার জাদিমুড়া সংলগ্ন নাফ নদী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রী ও মাদক উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অভিযানে ১০টি তাজা গ্রেনেড, ২৬ রাউন্ড তাজা গোলা এবং ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযান চলাকালে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে জাদিমুড়া বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন লবণ মাঠে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোক্তাদীন ছিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে যে, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের জাদিমুড়া এলাকার নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্ত ব্যবহার করে একটি মিয়ানমারভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী পরিবহনের উদ্দেশ্যে মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড ও গোলাবারুদ মজুত করে রেখেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ জুন (শনিবার) গভীর রাতে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের একপর্যায়ে জাদিমুড়া এলাকার একটি নির্জন স্থানে মাটির নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত ২টি 36M Mk-1 হ্যান্ড গ্রেনেড, ৮টি 40 mm HEDP গ্রেনেড এবং ২৬ রাউন্ড ৭.৬২ মিলিমিটার তাজা গোলা উদ্ধার করা হয়। একই স্থান থেকে ২ কেজি গাঁজাও জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা অন্ধকারের সুযোগে দ্রুত পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত এসব ধ্বংসাত্মক গোলাবারুদ অসাধু ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছালে কিংবা কোনোভাবে বিস্ফোরিত হলে সাধারণ মানুষের জানমাল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। কোস্ট গার্ডের সময়োপযোগী অভিযানের ফলে সীমান্ত ব্যবহার করে সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া উদ্ধার হওয়া গ্রেনেড, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা দমন এবং মাদক ও মানবপাচার রোধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্রসীমা ও নাফ নদী এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার, মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপতৎপরতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এসব অপরাধ দমনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।