
মোঃশহিদুল ইসলাম, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের বক্করের হাট থেকে চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চর মাদার বাজার পর্যন্ত প্রায় ১.৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
হরিপুর গ্রাম, চর মাদার, মাস্টারপাড়া হয়ে নবীনাবাদ পর্যন্ত চলাচলের একমাত্র এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। শুকনো মৌসুমে কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই রাস্তাটি কাদামাটি ও ভাঙনের কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জিনজিরাম নদীর তীরবর্তী হওয়ায় প্রতিবছর মাটি ফেলা হলেও বর্ষার আগেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দক্ষিণ মোয়ামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর মাদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হলি ল্যাক্সাসাস প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না এবং শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, “রাস্তার করুণ অবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সোহানুর রহমান সাইদুর এর ভাষ্যমতে, “এলাকার মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। রাস্তার অভাবে কৃষকরা সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারেন না। এতে লাভের পরিবর্তে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।”
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ আহসান হাবীব জানায়, “বর্ষার সময় স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। কাদা ও পানির কারণে প্রায়ই দেরি হয়ে যায়, কখনো যেতে পারিও না।”
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি দ্রুত ১.৫ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কার করে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও সাধারণ যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।
স্থানীয়রা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।