বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরকার ওমর ফারুক দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের শ্যামনগরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু পুলিশি শৃঙ্কলা ও নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ বকশী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি সাতক্ষীরায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযানের সমাপ্তি

গাবুরায় মাংসের বাজারে সিন্ডিকেট নদী পারাপারের অজুহাতে কেজিতে ৫০ টাকা বেশি আদায়

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩১২ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ফারুক হোসাইন, শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি।

 

 

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরায় গরুর মাংসের দাম নিয়ে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগ নিয়ে এবং প্রশাসনের নজরদারির অভাবে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ীরা। শ্যামনগর সদরে মাংসের কেজি ৬৫০ টাকা হলেও গাবুরায় তা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়।

মূল ভূখণ্ডের চেয়ে কেজিতে ৫০-১০০ টাকা বেশি,শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে গাবুরার ডুমুরিয়া সাপ্তাহিক বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি হাড়সহ গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার সবচেয়ে বড় বাজার ‘সোনার মোড়’ এবং উপজেলা সদরে প্রতি কেজি মাংসের বাজারমূল্য বর্তমানে ৬৫০ টাকা। ভৌগোলিক কারণে গাবুরার মানুষ নদী পার হয়ে সদরে যেতে পারে না—এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছেন মাংস ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেনসহ স্থানীয় কসাইরা।

 

স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছেন। বেশি দাম দিয়েও মিলছে না ফ্রেশ মাংস; ওজনে কম দেওয়া এবং হাড় ও চর্বি মিশিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ বলছেন, “নদী পার হতে পারি না বলে আমাদের থেকে কেজিতে ৫০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কেউ এখানে দাম দেখতে আসে না, তাই আমরা অসহায়।”

 

এদিকে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে অভিযুক্ত মাংস ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন অদ্ভুত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “বাজারে গরু নেই, যা আছে তার অনেক দাম। ৬৫০ টাকায় বেচলে আমাদের প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।” তবে সাধারণ মানুষ এই দাবিকে চড়া দাম নেওয়ার স্রেফ অজুহাত হিসেবে দেখছেন।

 

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, গাবুরা একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় এখানে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বেশি। এই অস্থিতিশীল বাজার নিয়ন্ত্রণে জরুরিভাবে

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা।

বাধ্যতামূলক মূল্যতালিকা, প্রতিটি দোকানে টাঙানো মূল্যতালিকা নিশ্চিত করা।

মনিটরিং কমিটি ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাজার তদারকি।

যাতায়াতের সীমাবদ্ধতাকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের ওপর এই বাড়তি দামের বোঝা চাপানো বন্ধ করতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দ্বীপবাসী।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews