শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাণীশংকৈলে বিদ্যুৎ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভায় পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত, ৩ বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন হয় সবুজের আড়ালে কৃষকের চোখের জল: ডুমুরিয়ায় সিন্ডিকেটের জালে পিষ্ট সবজিচাষিরা রাণীশংকৈলে মির্জা রুহূল আমিন গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ ইং শুভ উদ্বোধন  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আশাশুনি উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ। কাদাকাটি জামায়াতের সভাপতির পিতার রুহের মাগফিরাত কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল প্রতাপনগরে ২৫ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে ৩৫ টি পোশাক কারখানা বন্ধ উৎপাদনে  মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবি পুলিশের অভিযানে আট মাসে একের পর এক সাফল্যঃ কালিয়াকৈরে গ্যাসের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে মিলছে ৬০-১৬০ টাকার গ্যাস চালকের সময় অপচয় হচ্ছে ৫-৬ ঘণ্টা অশ্রুসিক্ত নয়নে মায়ের শেষ বিদায়, জানাজা-দাফন শেষে কারাগারে ফিরলেন সাবেক এমপি পুত্র ও আ.লীগ নেতা রাসেল

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবি পুলিশের অভিযানে আট মাসে একের পর এক সাফল্যঃ

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ খায়রুল ইসলাম রংপুর বিভাগীয় প্রধান

 

পুলিশ সুপার, ঠাকুরগাঁও মহোদয়ের দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), ঠাকুরগাঁও এটিএম গোলাম রসুলের নেতৃত্বে মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস, ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। তথ্যভিত্তিক অভিযান, বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার মধ্য দিয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছাপ পড়েছে। ডিবির লাগাতার তৎপরতায় অপরাধী মহলে সৃষ্টি হয়েছে চাপ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বেড়েছে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ।

 

ডিবি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একের পর এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে মাদকবিরোধী ৪৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৫৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ২৭ বোতল বিদেশি মদ, ৫০ বোতল ফেনসিডিল, ১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা, ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ১ কেজি গাঁজা। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং ২৮৪ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ক্যাসিনো সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যবহৃত ১৫টি মোবাইল ফোন ও ৮৯টি সিমকার্ড উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ।

 

অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রেও ডিবির অভিযানে এসেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। বালিয়াডাঙ্গী থানাধীন বালিয়াপুকুর গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি ৭ এমএম পিস্তল, একটি ৭.৬৫ পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও ১৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গোপন স্থানে অস্ত্র মজুদের ঘটনায় এ অভিযান জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

ডিবির ধারাবাহিক অভিযানে জেলার তিন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বালিয়াডাঙ্গীর মো. মোজাম্মেল হক ওরফে মোজাম (৪৯)-এর বিরুদ্ধে ৩২টি, পীরগঞ্জের মো. ফারুক হোসেন (৪২)-এর বিরুদ্ধে ৩০টি এবং মো. মোস্তফা আলী ওরফে আকাশ আহমেদ (৩৫)-এর বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা রয়েছে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে।

 

মাদক কারবারিদের পাশাপাশি আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ডিবি। বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তাদের গ্রেপ্তারের পর থেকে ঠাকুরগাঁও জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।

 

অন্যদিকে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে গোপন স্থানে অবস্থান নেওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী মেরীল সুমনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, নির্বাচনী নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়। এ ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও দ্রুত অভিযান পরিচালনায় ডিবির সক্ষমতার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

অপরাধ দমনের পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা রক্ষাতেও ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঠাকুরগাঁও সদর থানা এলাকায় বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী দুটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। পরে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় একটি মোটরসাইকেলকে ৩২ হাজার টাকা এবং অপরটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

সদর থানা এলাকায় মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক নারীকে তিন মাস এবং এক পুরুষকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া পৃথক অভিযানে গোপাল ঠাকুরের ছয়টি মূর্তি, পাঁচটি সাদা রঙের কয়েন ও একটি পিতলের কলস উদ্ধার করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, এটিএম গোলাম রসুল অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যক্রমে দৃশ্যমান গতি এসেছে। নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যভিত্তিক অভিযান, অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে ডিবির কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়েছে।

 

ডিবির এই ধারাবাহিক সাফল্য শুধু গ্রেপ্তার ও উদ্ধারকৃত আলামতের পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে ডিবির তৎপরতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক, অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে এ ধরনের ধারাবাহিক ও তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকলে ঠাকুরগাঁওয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ডিবির কঠোর অবস্থান এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তৎপরতা অপরাধ দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

 

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস, ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ভবিষ্যতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews