
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে সভাপতি সামিউল ইমাম আযম মনিরের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাংবাদিক সমাজ। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব ও স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা একাত্মতা ঘোষণা করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি মিছিল নিয়ে এসে যুবদল নেতা আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে প্রেসক্লাব ভবনে প্রবেশ করে। তারা সাজানোভাবে সভাপতি মনিরের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা স্থানীয় থানা পুলিশের নির্লিপ্ততা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন, হামলার আশঙ্কা থাকায় আগেই পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের সময়মতো উপস্থিতি ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে ক্লাব কার্যালয়ে ঢুকে এই তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পায়। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ ঘটনায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
উপজেলা প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্য আব্দুল আহাদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আবু কওছার, সিনিয়র সাংবাদিক ইঞ্জিনিয়ার আফজালুর রহমান, আবু সাঈদ, আনিসুর রহমান, রনজিৎ বর্মনসহ বিভিন্ন প্রেসক্লাবের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, “পেশাজীবী সংগঠনের কার্যালয়ে ঢুকে সভাপতির ওপর এই হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।”
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলার মূল হোতা আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান করতে হবে। অন্যথায়, জেলার সকল সাংবাদিক সংগঠনকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশে সুন্দরবন প্রেসক্লাব, উপকূলীয় প্রেসক্লাব, সীমান্ত প্রেসক্লাব এবং রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।