
নিজস্ব প্রতিবেদক
কালিগঞ্জ মাদক ব্যবসা, নারী পাচার এবং নিজের আপন দুই বোনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ‘বিয়ে বাণিজ্য’ ও ব্ল্যাকমেইলের এক নারকীয় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে কুখ্যাত অপরাধী আব্দুল রহিম। বর্তমানে চারটি মামলার আসামি এবং দুটি গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) মাথায় নিয়ে সে পলাতক রয়েছে। তার এই অপরাধের জালে আটকা পড়ে নিঃস্ব হয়েছে একাধিক পরিবার।
অভিযুক্ত আব্দুল রহিম সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের মথপুর (হাটখোলা) গ্রামের মৃত নূর আলী মোল্লার ছেলে। এলাকায় সে ‘ইয়াবা রহিম’ নামে পরিচিত। বর্তমানে সে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকলেও বাইরে থেকে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্দুল রহিম তার বড় বোন মনিরা ও ছোট বোন মঞ্জুয়ারাকে ব্যবহার করে এক অভিনব অপরাধ চক্র পরিচালনা করছে।
বড় বোন মনিরা: তাকে এ পর্যন্ত সাতটি বিয়ে দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ডিভোর্সের ভয় দেখিয়ে ও দেনমোহরের কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রহিম। বর্তমানে বড় বোনকে নিজ বাড়িতে রেখে দেহব্যবসায় বাধ্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ছোট বোন মঞ্জুয়ারা: তাকে ছয়বার বিয়ে দিয়ে এবং পাঁচবার প্রবাসে পাঠিয়ে তার উপার্জিত সমস্ত অর্থ আত্মসাৎ করেছে এই পাষণ্ড ভাই। বর্তমানে ছোট বোনকে সৌদি আরবে পাচার করে সেখানে দেহব্যবসায় বাধ্য করার লোমহর্ষক তথ্য পাওয়া গেছে।
রহিমের নিষ্ঠুরতা থেকে রেহাই পায়নি তার নিজের স্ত্রীরাও। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি থেকে মোটা অঙ্কের যৌতুক হাতিয়ে নেওয়ার পর নিজের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন ও ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ইতিপূর্বে মথপুর এলাকায় এক প্রতিবন্ধী নারীকে (পাগলী) ধর্ষণের চেষ্টার সময় এলাকাবাসীর হাতে গণধোলাই খেয়েছিল এই দুর্ধর্ষ অপরাধী।
কালিগঞ্জ ও নলতা শরীফ এলাকায় মাদকসহ দুইবার গ্রেফতার হওয়া রহিমের বিরুদ্ধে বর্তমানে চারটি মামলা চলমান রয়েছে। যার মধ্যে দুটিতে ইতিমধ্যে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মামলাগুলো হলো:
১. সিআর ৬৬৭/২৪: (আদালত কর্তৃক ওয়ারেন্টভুক্ত)
২. সিআর ৭১১/২৪: (প্রতারণা ও জালিয়াতি, ওয়ারেন্টভুক্ত)
৩. সিআর ৫৭১: (বিচারাধীন)
৪. মামলা নং ১০৮: (মাদক ও অন্যান্য অপরাধ)
দুই বোনের ইজ্জত বিক্রি করে বিলাসী জীবন যাপন এবং মাদকের নেশায় মত্ত এই পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, “এই কুলাঙ্গার রহিমকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে আরও অনেক পরিবার এবং নিরীহ নারী ধ্বংস হয়ে যাবে।”