
সাদিয়া পারভিন মুক্তা, নাটোর প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৪নং মশিন্দা ইউনিয়ন, গুরুদাসপুরসহ সমগ্র নাটোরবাসী, দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বলিষ্ঠ নেতা ও সাবেক সেনাসদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম (অবঃ সেনাবাহিনী)। তিনি ৪নং মশিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এক আপসহীন ও সাহসী যোদ্ধার প্রতিকৃতি
ব্যক্তিজীবনে মোঃ রফিকুল ইসলাম একজন সৎ ও নির্ভীক যোদ্ধা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সম্মানের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা ছিল সর্বমহলে প্রশংসনীয়। তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি কোনো অপশক্তির কাছে কখনো মাথা নত করেননি এবং করবেনও না। সত্য ও উচিত কথা স্পষ্ট করে বলার অদম্য সাহসিকতা তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। যদিও তাঁর এই স্পষ্টবাদিতার কারণে স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী কুচক্রী মহল মাঝেমধ্যে তাঁর শত্রুতে পরিণত হয়েছে, তবুও তিনি ন্যায়ের পথ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি।
সাম্য ও সহমর্মিতার বার্তা
এক শুভেচ্ছা বার্তায় মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের মাঝে বয়ে আনে সাম্য ও সহমর্মিতার বার্তা। আল-কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী আমাদের উচিত আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও অভাবগ্রস্তদের সাথে সদয় ব্যবহার করা।”
তিনি আরও বলেন, রমজানের শিক্ষা ধারণ করে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবেশী ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানোই হোক এবারের ঈদের মূল লক্ষ্য। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “সেই ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী পাশে ক্ষুধার্ত থাকে।” (বায়হাকী)।
বীর শহীদ ও মজলুমদের প্রতি শ্রদ্ধা
এদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সাবেক সেনাসদস্য বলেন, “এই মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য যুগে যুগে অনেক তাজা রক্ত ঝরেছে। ব্রিটিশ শাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠীর গোলামির জিঞ্জির ছিঁড়ে এই জাতিকে মুক্ত করতে ১৯৪৭, ১৯৫২ ও ১৯৭১ সালে যারা শহীদ হয়েছেন, আমি তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।”
তিনি দৃঢ় চিত্তে বলেন, “আমি নিজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। অদ্যবধি যারা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, আমি সেই সকল নির্যাতিত ও মজলুম মানুষের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলি এবং আমৃত্যু তাদের হয়েই কথা বলব। সামরিক বাহিনীতে থাকাকালীন দেশের সেবায় নিজের ডান চোখ হারিয়েছি—দেশের টানে যারা বুকের তাজা রক্ত দেয়, তারাই তো প্রকৃত দেশপ্রেমিক।”
আদর্শের অবিচল সৈনিক ও বঞ্চনার ইতিহাস
নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সাবেক জনপ্রিয় সংসদ সদস্য, প্রয়াত মোজাম্মেল হকের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত মোঃ রফিকুল ইসলাম আজীবন জাতীয়তাবাদী আদর্শের ধারক। মোজাম্মেল হকের প্রয়াণের পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ব্যারিস্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জুর নেতৃত্বে তিনি দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিগত সরকারের আমলে বিএনপি করার কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর সন্তানদের সরকারি চাকরিতে সুযোগ দেওয়া হয়নি, এমনকি ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবুও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দলের ভেতরের সুবিধাবাদী চক্রের লাঞ্ছনা সয়েও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
ত্যাগের অঙ্গীকার ও শেষ কথা
মোঃ রফিকুল ইসলাম নাটোরের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীবর্গের প্রতি আহ্বান জানান যেন দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি শুধু সুবিধা আদায়ের জন্য দল করি না। দলের দুঃসময়ে ছিলাম, সুসময়েও থাকবো। নিজেকে নেতা হিসেবে জাহির করার ইচ্ছা আমার নেই।” তিনি সর্বদা দলের সিদ্ধান্তের অনুগত এবং স্থানীয় নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দিবে, তিনি তার হয়েই কাজ করবেন।
পরিশেষে, তিনি দেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত সকল মুসলিম ভাই-বোনের কল্যাণ কামনা করে আবারো ঈদের শুভেচ্ছা জানান। ঈদ মোবারক।