
মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও পানিবন্দি মানুষের মাঝে সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে সরকারি খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ জসীম উদ্দীন এবং যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ আব্দুল গফুর।
যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চালসহ বিভিন্ন সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ত্রাণ গ্রহণের জন্য আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং সেই তালিকা অনুযায়ী উপকারভোগীদের মাঝে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
ত্রাণ বিতরণকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বর্তমান অবস্থা, খাদ্য সংকট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কেউ যাতে সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে প্রশাসনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ জসীম উদ্দীন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নতুন করে কোনো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদেরও সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ আব্দুল গফুর বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো জনপ্রতিনিধিদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে সরকারি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইউনিয়নের কোনো অসহায় পরিবার যেন অনাহারে না থাকে, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে কাজ অব্যাহত থাকবে।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন। তারা সরকারের এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।