
নিজস্ব প্রতিনিধি
ডিজিটাল নিউজ মিডিয়া “দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত”-এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এবং সাতক্ষীরার সম্মানিত পুলিশ সুপার (এসপি) মহোদয়কে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানোর পর অবশেষে টনক নড়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসনের। মাদক কারবারিদের সহযোগিতা, মাদক সেবন ও অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত শ্যামনগর থানার দুই কনস্টেবল মেহেদী ও মাহবুবকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল মেহেদীকে পাটকেলঘাটা থানায় এবং মাদকের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত অপর কনস্টেবল মাহবুবকে আশাশুনি থানায় বদলি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রকাশ পাওয়ায় জেলা পুলিশ প্রশাসনকে তাৎক্ষণিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তবে একই সাথে অপরাধের গভীরতার তুলনায় এই “বদলি” কোনো উপযুক্ত শাস্তি হতে পারে না উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
শ্যামনগর ও সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন—একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের সহযোগিতা ও মাদক সেবনের মতো মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার পরও কেন তাকে কেবল এক থানা থেকে অন্য থানায় বদলি করে পার করে দেওয়া হলো?
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাদকের সাথে জড়িত থাকা কোনো সাধারণ পেশাগত ভুল নয় যে কেবল বদলি করলেই তা সমাধান হয়ে যাবে। একজন সাধারণ নাগরিক মাদকসহ ধরা পড়লে যেখানে জেল-হাজত খাটতে হয়, সেখানে পুলিশের ক্ষেত্রে কেবল বদলি করাটা এক ধরনের প্রশ্রয়।” পাটকেলঘাটা ও আশাশুনি এলাকার সচেতন নাগরিকেরাও এই দুই বিতর্কিত পুলিশ সদস্যের পোস্টিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, সুনির্দিষ্ট শাস্তি না দিয়ে এভাবে অন্য থানায় পাঠিয়ে দিলে তারা সেখানেও একই অপরাধের বিস্তার ঘটাবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কনস্টেবল মাহবুব ও মেহেদীর বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেটের সাথে গভীর আঁতাত এবং সাধারণ মানুষের সাথে অপেশাদার আচরণের যে পাহাড়সম প্রমাণ রয়েছে, তার জন্য তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা এবং একটি নিরপেক্ষ মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে ‘ডোপ টেস্ট’ করানো অত্যন্ত জরুরি ছিল।
সাতক্ষীরার সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করে, বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতিকে মাঠপর্যায়ে সফল করতে এই দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। নামমাত্র বদলির আদেশ বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হবে, যা সামগ্রিকভাবে পুলিশের উপর জনগণের আস্থাকে চরম সংকটে ফেলবে।