
নজরুল ইসলাম খোকন টেকনাফ, কক্সবাজার
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে অপহরণ, মাদক, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্র, সীমান্ত অপরাধ এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত চিরুনি অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
শনিবার টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টেকনাফে প্রথমবারের মতো জেলার ও উপজেলার সব প্রধান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি রামু সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিয়ানুল হালিম খান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোমেল মণ্ডল, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় টেকনাফের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে অপহরণ, মাদক পাচার, মানবপাচার, সীমান্ত দিয়ে অপরাধ সংঘটন, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার এবং অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভা সূত্র জানায়, পাহাড়ি এলাকায় চিহ্নিত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ জোরদার, সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সব সংস্থাকে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, “টেকনাফের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপহরণ, মাদক, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।