
আবুজার গাজী, বিশেষ প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী পরিবারের তৃণমূল পর্যায়ে গভীর উদ্বেগ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। আসন্ন সংরক্ষিত নারী আসনে জেলার কোনো যোগ্য নেত্রীকে মূল্যায়ন না করায় স্থানীয় রাজনীতিতে এক ধরনের অভিভাবকশূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা। এই প্রেক্ষাপটে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন শ্যামনগর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সদস্য এবং সাতক্ষীরা জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন।
এক বিবৃতিতে নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা বলেন, “আমি দলের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলাম। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা রয়েছে। কারণ তিনি সবসময় যোগ্যদের মূল্যায়ন করতে জানেন।”
তবে তিনি জেলার বর্তমান রাজনৈতিক শূন্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আজ পুরো সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী পরিবারের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয়। জেলা থেকে সরকারের বা নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কোনো কার্যকর প্রতিনিধিত্ব না থাকায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আজ দিশেহারা। তাদের পাশে শক্তভাবে দাঁড়ানোর মতো একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম এখন সময়ের দাবি।”
সাতক্ষীরার স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপকূলীয় এই জনপদে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নানা প্রতিকূলতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলা থেকে একজন নারী জনপ্রতিনিধি থাকলে দল ও সাধারণ মানুষের যোগাযোগ রক্ষা করা সহজ হতো। তৃণমূলের কর্মীরা মনে করেন, সাতক্ষীরার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জোরালো কণ্ঠস্বর না থাকলে উন্নয়ন ও সাংগঠনিক শক্তি—উভয়ই বাধাগ্রস্ত হয়।
বিবৃতির শেষাংশে মিসেস ঝর্ণা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নিকট বিনীত আবেদন জানিয়ে বলেন, সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের আবেগ এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে জেলার কাউকেও না কাউকেও একটি কার্যকর নেতৃত্বে বা প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া হোক। অন্যথায় এই শূন্যতা আগামীতে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মিসেস নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা সাতক্ষীরা জেলা মহিলা দলের একজন ত্যাগী নেত্রী হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।