
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরায় ১৭টি মামলার দুর্ধর্ষ আসামি, কুখ্যাত ‘কোপা মাসুদ’ গ্যাং-এর প্রধান মো. মাসুদুর রহমান ওরফে মাসুদ রানাকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে সদর উপজেলার দহাকুলা এলাকায় আত্মগোপন থেকে বের হলে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনির শিকার হন এই চিহ্নিত সন্ত্রাসী। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আরেফিন জুয়েল, বিপিএম-এর বিশেষ দিক-নির্দেশনায় এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা. মাসুদুর রহমান, পিপিএম-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে রোববার গভীর রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) এম শামীম আহমেদ ও সঙ্গীয় ফোর্স।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর কুখ্যাত এই সন্ত্রাসী দহাকুলায় তার নিজ বাড়ির পাশে আসার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে কয়েক এলাকার মানুষ জড়ো হয়। মাসুদের দীর্ঘদিনের অত্যাচার, চাঁদাবাজি ও দাঙ্গাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়া এলাকাবাসী ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাকে গণপিটুনি দেয়। এতে আসামী জখমপ্রাপ্ত হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে গ্রহণ করে।
পুলিশি নথিপত্র অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত মাসুদুর রহমান (পিতা- তাজেল সরদার ওরফে তাইজউদ্দীন) একজন দুর্ধর্ষ ও হিংস্র প্রকৃতির অপরাধী। তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় হত্যা, ডাকাতি, চুরি, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৭টি নিয়মিত মামলা রয়েছে। সে এলাকায় একটি শক্তিশালী ‘গ্যাং গ্রুপ’ পরিচালনা করত এবং টাকার বিনিময়ে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে বিভিন্ন স্থানে জমি দখল ও দাঙ্গা-হাঙ্গামায় লিপ্ত হতো। তার ভয়ে দীর্ঘদিন এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খোলার সাহস পায়নি।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “আসামি মাসুদ ওরফে কোপা মাসুদ একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন। সে এলাকায় চরম ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছিল। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় এলাকায় ফিরলে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে সে জখম হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আজ (রোববার) যথাযথ পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে।”
সাতক্ষীরা জেলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে এবং এ ধরনের গ্যাং কালচার ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।