
শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে একজন হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকের ওপর বর্বরোচিত হামলার খবর পাওয়া গেছে। ৯নং সোরা দৃষ্টিনন্দন হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মোঃ শফিকুল ইসলামকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা আবিয়ার রহমানের ভাইপো আঃ রহমান গাজী ও ঝান্টু গাজীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার বিশ্রামের সময় জনৈক এক কিশোর হনুমানকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়লে তা মাদ্রাসার টিনের চালে পড়ে বিকট শব্দ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মোঃ শফিকুল ইসলাম ওই কিশোরকে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোরটি শিক্ষককে লক্ষ্য করে অশালীন গালিগালাজ শুরু করে। শিক্ষক তাকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে দিলে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এরই জেরে পরবর্তীতে ওই কিশোরের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় জামায়াত নেতা আফিয়ার রহমানের ভাইপো আঃ রহমান গাজী ও ঝান্টু গাজী দলবল নিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশ করেন। তারা শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট এবং কিল-ঘুষি মেরে জখম করেন।
শিক্ষকের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় গাবুরা ইউনিয়নসহ পুরো শ্যামনগর উপজেলায় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, একজন সম্মানিত শিক্ষকের ওপর এমন হামলা কেবল ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার ওপর চরম আঘাত। এই ঘটনায় স্থানীয় ‘শৈলী’ নামক জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
এলাকাবাসী ও সচেতন সমাজ এই হামলার প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেনয হামলাকারী আঃ রহমান গাজী ও ঝান্টু গাজীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিরা যদি এভাবে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায়, তবে শিক্ষার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। তারা এই বর্বরোচিত হামলার দ্রুত বিচার ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।