
মোঃ খায়রুল ইসলাম রংপুর বিভাগীয় প্রধান
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী অভিযোগ করেছেন, আয়োজনে প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের একটি বড় অংশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং অনেকের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থাও ছিল না।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনে রাণীশংকৈল উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের তালিকায় সেই বৃহৎ অংশের প্রতিনিধিত্ব দেখা যায়নি। তাদের দাবি, মাত্র অল্প কয়েকজনকে সংবর্ধনার আওতায় এনে আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস ও অংশগ্রহণকে সংকুচিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন আন্দোলনকারী বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ ছাত্র-জনতার অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গণআন্দোলন। তাই এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শন করা উচিত ছিল। অনেক প্রকৃত অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রণ না পাওয়ায় তারা নিজেদের অবমূল্যায়িত ও বঞ্চিত মনে করছেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানের ব্যানারে ব্যবহৃত ‘জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ শিরোনাম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাদের মতে, এর পরিবর্তে ‘জুলাই শহীদদের স্মরণে’ বা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক কোনো শিরোনাম ব্যবহার করা হলে তা আন্দোলনের সার্বজনীন চেতনার সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো। তাদের বক্তব্য, জুলাই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের নয়; এটি ছিল সাধারণ ছাত্র-জনতার সম্মিলিত সংগ্রাম।
সমালোচকদের আরও দাবি, অনুষ্ঠানটি যদি উপজেলা প্রশাসনের বড় অডিটোরিয়াম বা অধিক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কোনো স্থানে আয়োজন করা হতো, তাহলে আরও বেশি সংখ্যক জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী উপস্থিত থাকতে পারতেন। এতে আন্দোলনের প্রকৃত অংশীদারদের যথাযথ সম্মান জানানো এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ভবিষ্যতে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক আয়োজনে প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন।