
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের স্মার্টফোন বাজারে চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে নিম্নমানের হ্যান্ডসেট বিক্রি করে হাজার হাজার গ্রাহককে প্রতারিত করার অভিযোগ উঠেছে ‘ইনফিনিক্স’ (Infinix) নামক মোবাইল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে। পকেটে রাখলেই বডি বেঁকে যাওয়া, মাদারবোর্ড নষ্ট হওয়া এবং কিস্তির নামে চড়া সুদ আদায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সাতক্ষীরাসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তেই এখন এই ব্র্যান্ডটি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সারাদেশের ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, ইনফিনিক্স ফোনের স্থায়িত্ব বলতে কিছুই নেই। অত্যন্ত সস্তা মানের প্লাস্টিক ও নড়বড়ে বডি ব্যবহারের ফলে পকেটে থাকা অবস্থায় সামান্য চাপেই ফোনটি ধনুকের মতো বেঁকে যাচ্ছে। ঢাকার একটি সার্ভিস সেন্টারে আসা এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্মার্টফোনের নামে খেলনা কিনেছি। পকেটে নিয়ে চলাফেরা করাও দায়। কয়েকদিনেই ফোনের বডি বেঁকে গেছে এবং ডিসপ্লে ফেটে গেছে।”
অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষকে লক্ষ্য করে ‘সহজ কিস্তি’র ফাঁদ পেতেছে কোম্পানিটি। অল্প টাকা ডাউমপেমেন্টে ফোন দিলেও, মাস শেষে চড়া সুদ যোগ করে গ্রাহকের কাছ থেকে আসল দামের চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকার সহজ-সরল মানুষ এই সুদের হিসাব বুঝতে না পেরে কিস্তির জালে আটকা পড়ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসাধু মোবাইল ব্যবসায়ীরা বেশি কমিশনের লোভে সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছেন। নামী ও টেকসই ব্র্যান্ডের বদলে তারা গ্রাহকদের হাতে ইনফিনিক্স ধরিয়ে দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের চটকদার কথায় বিশ্বাস করে সাধারণ মানুষ এই ‘বাজে’ ফোনগুলো কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। বিশেষ করে সাতক্ষীরার মতো সীমান্ত জেলাগুলোতে এই সিন্ডিকেট আরও বেশি সক্রিয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সরাসরি অভিযোগে গ্রাহকরা অন্যদের এই ব্র্যান্ডের ফোন কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, এটি কেবল অর্থের অপচয় নয়, বরং এক ধরনের পরিকল্পিত প্রতারণা। চটকদার ক্যামেরা বা বেশি র্যাম-রোমের প্রলোভন দিয়ে ভেতরে অত্যন্ত নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগীরা বলছেন, এই ধরনের নিম্নমানের পণ্য বাজারে ছেড়ে সাধারণ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া দ্রুত বন্ধ করতে হবে। কিস্তির নামে সুদের কারবার এবং গুণগত মানহীন ফোনের বাজারজাতকরণ বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে দেশজুড়ে।