
শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ও রংপুর ইউনিয়নের থুকড়া বিজলীঘাটা মহাশ্মশানের একমাত্র চলাচলের সড়কটি দিন দিন ভেঙে মাছের ঘেরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এমন কি মৃত ব্যক্তির লাশ কাঁধে নিয়ে বাজার ঘুরে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ ভোটার এবং প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। থুকড়া কাছারী বাড়ি আর,আর,জি,টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত, বিদ্যালয়ের ঐ মাছের ঘেরে পানির চাপে সড়কটির বড় অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ইউনিয়ন বাসীকে। বিশেষ করে বিজলীঘাটা মহাশ্মশানে যাতায়াতের জন্য হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এটি একমাত্র রাস্তা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভাঙতে ভাঙতে সড়কটি প্রায় ঘেরের মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়ায় মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে শ্মশানে যেতে এখন অনেক দূর ঘুরে থুকড়া বাজার হয়ে যেতে হচ্ছে, যা নারী ও বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ আব্দুল সালাম বলেন, বিজলীঘাটা মহাশ্মশানের রাস্তার দুরবস্থার বিষয়ে খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবির সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি একটি লিখিত আবেদন দিতে বলেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ১২নং রংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সমরেশ মন্ডল ও ২নং রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোজিৎ বালা বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। ডুমুরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ ফ্রন্টের সম্পাদক নীল উৎপল মন্ডল বলেন, এই মহাশ্মশানটি আমাদের শেষ ঠিকানা। অথচ সেখানে মৃত্যু ব্যক্তি নিয়ে যাওয়ার রাস্তাটি এখন প্রায় নেই বললেই চলে। দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। এলাকার সমাজসেবক ডা. অনুপম মল্লিক বলেন, রাস্তাটি ভেঙে ঘেরের মধ্যে চলে যাচ্ছে। জনস্বার্থে অবিলম্বে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে এটি পুনর্র্নিমাণ করা প্রয়োজন। তাছাড়া এই রাস্তাটি রংপুর ইউনিয়ন বাসীর পহ্ম থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি সংস্কারের জন্য। স্থানীয় প্রবিন কবিরাজ জানান, অনেকদিন ধরেই রাস্তাটি ভাঙছে। আগে এই পথেই মৃত্যু মানুষ নিয়ে চলাচল করত, এখন বাধ্য হয়ে ঘুরপথে থুকড়া বাজার হয়ে যেতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।