
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ৫নং কুশুলিয়া ইউনিয়নে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে এক সাধারণ নাগরিকের জীবন এখন বিপন্ন। ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাবলুর রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক শিথিলতাকে কাজে লাগিয়ে মামলার আসামি বিদেশে পাড়ি দিলেও, নিরাপত্তাহীনতায় নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না ভুক্তভোগী কাজী আব্দুস সালাম।
প্রাপ্ত তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভুক্তভোগী আব্দুস সালামের উপার্জিত ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এবং ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা চুক্তিনামা লঙ্ঘনের অভিযোগে তার সাবেক স্ত্রী মঞ্জুআরার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, সেই মামলার তথ্য গোপন করে বা পাশ কাটিয়ে জনৈক মঞ্জুআরা কালিগঞ্জ থানা থেকে ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ সংগ্রহ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন।
দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন থাকলে তিনি বিদেশ গমনের জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ ভেরিফিকেশন পাওয়ার যোগ্য নন। কিন্তু মঞ্জুআরার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কীভাবে লঙ্ঘিত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরেই। অভিযোগ উঠেছে, সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাবলুর রাজনৈতিক ‘লেয়াজু’ ও প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় থানা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই অবৈধ ক্লিয়ারেন্স ইস্যু করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুস সালামের ওপর ইতিপূর্বেও বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার সচিত্র সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সালামের দাবি, সাবেক চেয়ারম্যান বাবলুর কিছু গোপন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ (কল রেকর্ড) তার কাছে থাকায় তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সালাম আর্তনাদ করে বলেন,
“আমার টাকা আত্মসাৎ করা হলো, আমার ওপর বারবার হামলা হলো, অথচ আসামিরা আইনকে ফাঁকি দিয়ে বিদেশ চলে যাচ্ছে। আমি এখন নিজ বাড়িতেও থাকতে পারছি না। প্রশাসন কি তবে অপরাধীদের পক্ষ নিচ্ছে?”
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাবেক চেয়ারম্যান বাবলু জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে এলাকায় একটি ‘অপরাধ সিন্ডিকেট’ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। ৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টালেও বাবলুর এই সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক সংযোগ এখনো অটুট রয়েছে, যার কারণে আব্দুস সালামের মতো সাধারণ মানুষ বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, মামলা থাকার পরও কোনো আসামির বিদেশ গমন কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং আইনের শাসনের চরম অবমাননা। এটি তদন্তকারী কর্মকর্তার পেশাদারিত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এই বিষয়ে কালিগঞ্জ থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলেও তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগী সালামের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
একজন সাধারণ নাগরিকের অর্থ এবং নিরাপত্তা যখন প্রভাবশালী চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে, তখন রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্থা বিলীন হতে থাকে। আব্দুস সালামের এই আর্তনাদ এবং আইন লঙ্ঘনের এই ঘটনা তদন্তে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকা ও সচেতন নাগরিক সমাজ।