1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

গাবুরায় চেয়ারম্যানের নির্দেশে অস্ত্র ক্রয় ও ষড়যন্ত্রের অডিও ফাঁস আতঙ্কে এলাকাবাসী, মামলার প্রস্তুতি

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাছুদুল আলমের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর ইউনিয়ন জুড়ে চাঞ্চল্য ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফাঁস হওয়া অডিওতে জনৈক অস্ত্র ব্যবসায়ীর সাথে এক স্কুল শিক্ষকের দরদাম এবং চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিন ব্যক্তিকে অস্ত্র দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার নীল নকশা প্রকাশ পেয়েছে।

 

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাবুরার চাঁদনীমূখ্যা এম এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খাইরুল ইসলাম মিলন জনৈক ‘কানা মান্নান’ নামক ব্যক্তির কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনার বিষয়ে দরদাম করছেন। অডিওতে মিলনকে বলতে শোনা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান জিএম মাছুদুল আলমের নির্দেশে এই অস্ত্র কেনা হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য— পার্শ্বেমারী গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াজেদ জোয়ার্দারের ছেলে রবিউল জোয়ার্দার, হাফিজুল গাজী (পিতা: ইউনুস গাজী) এবং গাগড়ামারী গ্রামের মজিবার খাঁ-কে (পিতা: মৃত আলী খাঁ) পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো। কথোপকথনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘ম্যানেজ’ করে তাদের দীর্ঘমেয়াদী কারাবাসের পরিকল্পনার বিষয়টিও উঠে আসে।

 

ষড়যন্ত্রের শিকার রবিউল জোয়ার্দার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের অন্যায় আবদার ও প্রভাব বিস্তার না মানায় তাদের এভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রাণনাশের হুমকিতে আছি। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষকে এভাবে হয়রানি করা হয়েছে।” রবিউল জোয়ার্দার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

 

শুধু ষড়যন্ত্রই নয়, চেয়ারম্যান মাছুদুল আলমের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতেরও অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, চলতি শীত মৌসুমে সরকার থেকে বৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত কম্বল ও শীতবস্ত্র বরাদ্দ দেওয়া হলেও ইউনিয়নের প্রকৃত দুস্থরা তা পাননি। এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ— উন্নয়নের বুলি আওড়ালেও বাস্তবে গাবুরায় কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়নি।

 

স্থানীয়দের দাবি, এর আগে চেয়ারম্যানের দুর্নীতির খবর প্রকাশ করায় কয়েকজন সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে। এতে শ্যামনগর থানার সাবেক ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লার প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যানের হয়ে আর্থিক সুবিধা নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের একটি সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করতে কাজ করছে।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান জিএম মাছুদুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে কালিগঞ্জ সার্কেল অফিসার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “অডিও রেকর্ড ও অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে এবং মামলা দায়ের হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।”

গাবুরা ইউনিয়নে শান্তি বজায় রাখতে এবং এই গভীর ষড়যন্ত্রের নেপথ্য নায়কদের আইনের আওতায় আনতে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত