1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন

পাটকেলঘাটায় টাইলস ব্যবসার আড়ালে শাহিনের ‘স্বর্ণরাজ্য’ নেপথ্যে হুন্ডি ও রাজনৈতিক নেক্সাস

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

স্বৈরাচারী শাসনের ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা বাজারে গড়ে উঠেছে এক রহস্যময় অবৈধ সাম্রাজ্য। ‘মীর সেনেটারী এন্ড টাইলস’-এর আড়ালে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী শাহিনের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালান, সীমান্তপথে হুন্ডি এবং অবৈধ অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিগত আওয়ামী সরকারের প্রভাবশালী মহলের সাথে সখ্যের সুবাদে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত এক দশকে তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহিনের মূল পরিচিতি টাইলস ব্যবসায়ী হিসেবে হলেও তার প্রকৃত আয়ের উৎস সীমান্তকেন্দ্রিক স্বর্ণ ও হুন্ডি ব্যবসা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, সীমান্তঘেঁষা সিন্ডিকেটের সাথে ঘনিষ্ঠতা রেখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে সমঝোতার মাধ্যমে তার এই কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।

 

পাটকেলঘাটা বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় শাহিনের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্য টাউন’। সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে নিম্নোক্ত সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে:

বাজারের প্রাণকেন্দ্রে একাধিক বাণিজ্যিক দোকানঘর।

বিলাসবহুল আবাসিক ভবন ও একাধিক কৃষি জমি।

বিভিন্ন ব্যবসায় বেনামী বিনিয়োগ।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন সাধারণ টাইলস ব্যবসায়ীর পক্ষে এত অল্প সময়ে এই বিশাল বৈভব অর্জন করা অসম্ভব। তাদের দাবি, আয়কর নথিতে এই সম্পদের হিসাব এবং প্রকৃত আয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, স্বৈরাচারী শাসনের সময় শাহিন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে নিজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঢেকে রাখতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “শাহিনের বিরুদ্ধে মুখ খুললে প্রশাসনের ভয় দেখানো হতো। রাজনৈতিক আশ্রয়ে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন, যার ফলে তার হুন্ডি ও চোরাচালান চক্র বিস্তৃত হয়েছে।”

গণমাধ্যমে প্রাথমিক তথ্য আসার পরও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত শুরু না হওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, নেপথ্যে প্রভাবশালী কোনো চক্র এখনো তাকে সুরক্ষা দিচ্ছে।

 

সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত অঞ্চলে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে শাহিনের আয়ের উৎস এবং এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা জরুরি

 

এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। আত্মপক্ষ সমর্থনে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত