
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন এক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ চুরির অপবাদ দিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে কর্মবিরতির ডাক, অন্যদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ‘স্বেচ্ছাসেবক ইনচার্জ’ এস কে ইসলামুল হোসেন জজ-এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী অপরাধচক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, নিজের চুরি ও মাদক কারবার আড়াল করতেই চালকদের বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা করছেন এই তথাকথিত স্বেচ্ছাসেবক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের এস কে ইসলামুল হোসেন জজ শ্যামনগর হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবকের ছদ্মবেশে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। অভিযোগ রয়েছে:
সরকারি সম্পদ লুট, হাসপাতালের পুকুর থেকে রাতের আঁধারে জাল টেনে হাজার হাজার টাকার মাছ নিধন করে কালিগঞ্জে পাচার এবং সরাসরি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে জজের বিরুদ্ধে।
স্থাপত্য ও সরঞ্জাম চুরি, হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনের গ্রিল এবং লোহার বেড রাতের আঁধারে পাচার করার সময় একাধিকবার সাধারণ চালকদের চোখে পড়েন তিনি।
ওষুধ কালোবাজারি,সরকারি স্টকের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কালিগঞ্জের বিভিন্ন দোকানে চড়া মূল্যে বিক্রির সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন এই জজ।
মাদক ও চোরাচালান,সীমান্ত এলাকায় বসবাস করার সুবাদে অবৈধ চোরাচালান ও মাদক কারবারিদের সাথে তার সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে, যা হাসপাতালের পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে।
ভুক্তভোগী অ্যাম্বুলেন্স চালকদের দাবি, তারা জজের এসব অপকর্ম দেখে ফেলায় এবং প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর চুরির দায় চাপানো হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক সুলতান শাহজাহানকে ব্যবহার করে ‘The Editors’ নামক পোর্টালে ভিত্তিহীন নিউজ করানোর নেপথ্যে ছিল দুই লক্ষ্যের সমন্বয়:
জজের অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়া।
চালকদের কাছ থেকে গাড়ি প্রতি মাসিক ২,০০০ টাকা চাঁদা আদায় নিশ্চিত করা।
অ্যাম্বুলেন্স চালক কল্যাণ সমিতির নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা জীবন বাঁচাতে লড়ি, আর জজ লড়ে হাসপাতালের সম্পদ লুটতে। চাঁদা না দেওয়ায় আমাদের চোর সাজানো হয়েছে। এর বিচার না হলে আমরা সেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হবো।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জজ বিএনপির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দলের নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সদের বদলে জজের অধীনে থাকা অদক্ষ স্বেচ্ছাসেবকরাই অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের ট্রিটমেন্ট দিচ্ছেন। সম্প্রতি নার্সদের দায়িত্বহীনতার একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান জানিয়েছেন, সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ ও রোগীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। যদি দ্রুত এই ‘স্বেচ্ছাসেবক সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হয়, তবে শ্যামনগরের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।