1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন

শ্যামনগরে দুর্ধর্ষ চুরির রহস্যভেদ আন্তঃজেলা চক্রের ৩ ভাই-বোন গ্রেফতার, ৯ লক্ষ টাকার স্বর্ণ উদ্ধার

আবুজার গাজী খুলনা বিভাগীয় প্রধান
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

আবুজার গাজী, খুলনা বিভাগীয় প্রধান

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঢাকা ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সাড়াসি অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা চোর চক্রের মূল হোতাসহ একই পরিবারের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা সমমূল্যের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৮), তার ভাই শেখ শিমুল হোসেন (৩০) এবং তাদের বোন জাকিয়া সুলতানা। সাইফুল ও শিমুল শ্যামনগরের ফুলতলা মাজাট এলাকার শেখ জাকির হোসেনের পুত্র।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় শ্যামনগরের ফুলতলা মাজাট এলাকার মোঃ মোদাচ্ছের আলম লিটনের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। চোরচক্র ড্রয়ার ভেঙে নগদ ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা এবং স্বর্ণ ও রুপার অলংকার নিয়ে যায়। মামলার তদন্তে নেমে শ্যামনগর থানা পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৮ মার্চ রাতে ঢাকার আশুলিয়া থেকে সাইফুলকে গ্রেফতার করে।
সাইফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ও সদর থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তার ভাই শিমুল ও বোন জাকিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। জাকিয়ার হেফাজত থেকে ১ জোড়া স্বর্ণের রুলি, ১টি নেকলেস, ৩ জোড়া কানের দুল, ৩টি আংটিসহ বিপুল পরিমাণ অলংকার উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম একজন পেশাদার অপরাধী। কিছুদিন আগেই সে অন্য একটি চুরির মামলায় জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় এই দুর্ধর্ষ চুরিতে লিপ্ত হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান জানান, “গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্য। তাদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। আমরা অপরাধ দমনে কোনো আপোষ করছি না। বিশেষ করে মাদক ও চুরির মতো অপরাধের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে।”

এদিকে ওসি মোঃ খালেদুর রহমানের যোগদানের পর থেকে শ্যামনগর থানায় সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের মতে, বর্তমান ওসি অত্যন্ত সৎ ও জনবান্ধব। সাধারণ মানুষ কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন ছাড়াই সরাসরি তার সাথে কথা বলে সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন। থানায় দালালি ও হয়রানি বন্ধ হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এই চক্রের অন্য সদস্য সবুজকে গ্রেফতার করে আরও কিছু স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছিল। বর্তমান অভিযানে গ্রেফতারকৃত তিন আসামীকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত