1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

শ্যামনগরে জনসমুদ্রে রূপ নেয় জামায়াতের জনসভা

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি।

 

ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বেই বাংলাদেশে একটি নতুন, শান্তিপূর্ণ ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। এই নতুন বাংলাদেশে থাকবে না হিংসা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অনিয়মের রাজনীতি। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমেই এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াত মনোনীত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জনসভায় হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভার শুরুতেই সাদিক কায়েম শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর বিচারের দাবিতে উপস্থিত জনতাকে সঙ্গে নিয়ে স্লোগান দেন।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরাসহ সারাদেশে দীর্ঘদিন ধরে জুলুম-নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়েছে। নির্যাতিত মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, এ দেশের মানুষ আর অন্যায়, অবিচার ও দমন-পীড়নের রাজনীতি দেখতে চায় না। জনগণ আজ নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও একটি মানবিক সমাজব্যবস্থা প্রত্যাশা করছে।

সাদিক কায়েম বলেন, আগামী নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ৫৪ বছরের দুর্নীতিবাজ ও মাফিয়া শাসনের অবসান ঘটবে। জনগণের রায়েই প্রতিষ্ঠিত হবে একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা থাকবে সর্বাগ্রে।

তিনি আরও বলেন, যারা বছরের পর বছর ক্ষমতায় থেকে লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দখলদারিতে জড়িত ছিল, তাদের আর দেশের মানুষ মেনে নেবে না। সময় এসেছে এই অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।

জামায়াত সরকার গঠন করলে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মা-বোনেরা যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারে—এই পরিবেশ সৃষ্টি করাই জামায়াতের লক্ষ্য।

সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে শতাধিক নেতাকর্মী হারিয়েছে। যারা নিজেদের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, তারা কখনোই দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী অতীতেও মানুষের পাশে ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে জামায়াত প্রার্থীদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাতক্ষীরার মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে কোনো শক্তিই এই পরিবর্তন ঠেকাতে পারবে না।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধান বক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, শ্যামনগর একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। নির্বাচিত হলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবনকে পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর, শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবির ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত