
মোঃ মেহেদী হাসান, সম্পাদক ও প্রকাশক
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ ও যুবসমাজকে ঘিরে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কীটনাশক ও অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনের মতো মারাত্মক পথ বেছে নেওয়ার এই প্রবণতা স্থানীয় সচেতন মহল এবং অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বর্তমান বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি–জুন) শ্যামনগরে আত্মহত্যার চেষ্টার এক alarming চিত্র উঠে এসেছে। এই স্বল্প সময়ে কেবল বিষপানে ৭ জন (১ জন মৃত), অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ২২ জন (১ জন মৃত) এবং গলায় ফাঁস দিয়ে ৭ জনসহ মোট উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া একই সময়ে অসাবধানতাবশত পানিতে ডুবে ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, বিগত পুরো বছরে এই ধরনের ঘটনার শিকার হয়ে চিকিৎসাসেবা নিয়েছিলেন প্রায় ১২০ জন। কিন্তু বর্তমান বছরের কেবল অর্ধবছরের হিসাব পূর্ববর্তী বছরের পরিসংখ্যানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। যা শ্যামনগরের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক মারাত্মক ও ভয়ংকর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান প্রজন্মের এই আত্মঘাতী প্রবণতা রোধে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে— সন্তানদের চলাফেরা, মানসিক পরিবর্তন এবং হতাশাগ্রস্ত আচরণের প্রতি গভীর নজর রাখা।
সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় এনজিও এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
সন্তানদের সময় দেওয়া এবং তাদের যেকোনো মানসিক সংকট বা পারিবারিক চাপের কথা খোলামেলা শোনার পরিবেশ তৈরি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি সুস্থ প্রজন্ম গঠনে কেবল আইন বা শাসন নয়, বরং পরিবারের আন্তরিক ভালোবাসা ও মানসিক সমর্থন সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রতিটি অভিভাবক একটু সচেতন হলেই এই অবক্ষয় রোধ করে একটি সুন্দর ও সুশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
জনস্বার্থে প্রকাশিত এই বার্তাটি বেশি বেশি শেয়ার করে প্রতিটি অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিন। আপনার সামান্য সচেতনতা বাঁচাতে পারে একটি তাজা প্রাণ।