1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন

আশাশুনির কাপসন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লুটপাটের ‘মহাৎসব’

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদন

প্রধান শিক্ষক তাপস কুমারের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ বিক্রি ও কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী,সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ৬০ নম্বর কাপসন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ এখন দুর্নীতির কালো মেঘে ঢাকা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দাসের বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের ভবন ও গাছ বিক্রি এবং চাকরির নামে সাধারণ মানুষের সাথে কোটি টাকার প্রতারণার এক রোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে। বিদ্যালয়ের দপ্তরি হাসানের সহযোগিতায় দীর্ঘ ৯ বছর ধরে চলা এই লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালে যোগদানের পর থেকেই প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বিদ্যালয়টিকে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। কোনো প্রকার টেন্ডার বা সরকারি অনুমতি ছাড়াই তিনি বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদ এবং কক্ষের গ্রিল খুলে বিক্রি করে দিয়েছেন। এমনকি বিদ্যালয়ের জন্য নতুন বাথরুম নির্মাণের জন্য আসা সরকারি ইট, সিমেন্ট ও লোহাও তিনি আত্মসাৎ করে অন্যত্র বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, তিনি প্রতিবছর সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রি করে সেই টাকা নিজের পকেটে ভরেন, যা সরকারি আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নথি ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে:

স্লিপ (SLIP) ও বিবিধ ফান্ড: প্রতি বছর স্লিপ কার্যক্রমের ৭০ হাজার টাকা এবং প্রাক-প্রাথমিকের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা কোনো কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়।

উপকরণ ক্রয়: চক, ডাস্টার ও খাতা-কলম বাবদ আসা বাৎসরিক ৮০ হাজার টাকা এবং জাতীয় দিবসের বরাদ্দকৃত অর্থ বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা না দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করেছেন।

শিক্ষার্থী হয়রানি: সরকার থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের পোশাকের টাকা বরাদ্দ থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত অবৈধভাবে মাসিক টাকা আদায় করার অভিযোগও রয়েছে।

 

প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির হাত প্রসারিত হয়েছে বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট পর্যন্ত। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তিনি এলাকার বিভিন্ন বেকার যুবকের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই চক্রের অন্যতম শিকার মির্জাপুর গ্রামের কামাল, যার ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের দায়ে বর্তমানে খুলনা আদালতে একটি মামলা (চলমান) রয়েছে। এছাড়া গোড়ালি গ্রামের দোকানদার সালাম ও জনৈক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছ থেকেও সমপরিমাণ টাকা নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে কোনো কার্যকরী ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় তাপস কুমার দাস একক আধিপত্য বিস্তার করেছেন। স্থানীয় সহকারী শিক্ষা অফিসারকে (এটিও) ম্যানেজ করে তিনি বছরের পর বছর এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে এই দাপট দেখাতেন। বাড়ি কাছে হওয়ায় তিনি সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না, অথচ নিয়মিত সরকারি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।

 

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সরকারি টাকা ও প্রতারণার অর্থ দিয়ে তাপস কুমার নিজ গ্রামে মার্কেট নির্মাণ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ তিনি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাচার করেছেন এবং সেখানে তার জমি ও সম্পদ রয়েছে।

 

বিদ্যালয়টির সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় এলাকাবাসী আজ ঐক্যবদ্ধ। তারা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের অপসারণ, তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের তদন্ত এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ বিদ্যালয় তহবিলে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দাসের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি এবং তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত