1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

আশাশুনিতে শিক্ষিকার ‘ঘটকালি’ বিয়ের প্রস্তাব থেকে বশীকরণ ও হুমকির মহড়া

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

আশাশুনি প্রতিনিধি

 

শিক্ষার আলো ছড়ানোর কথা যে শিক্ষিকার, তার বিরুদ্ধেই উঠেছে ছাত্রীকে বাল্যবিবাহের জালে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার হাড়িভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার ‘ঘটকালি’ এবং পরবর্তীতে এক প্রভাবশালী চক্রের হুমকির ঘটনায় এলাকায় এখন আতঙ্কের নাম ‘মিঠুন ও দীপঙ্কর সিন্ডিকেট’।

 

প্রস্তাব থেকে ‘কালো জাদু’ অনুসন্ধানে জানা যায়, হাড়িভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিলি সরকারকে লক্ষ্যবস্তু করেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অনিমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিঠুন। ছাত্রীর পরিবারকে রাজি করাতে সরাসরি ঘটক হিসেবে মাঠে নামেন শিক্ষিকা অনিমা ও তার স্বামী দীপঙ্কর। তারা ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে মিঠুনের সাথে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

তবে সচেতন বাবা-মা এই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। মিলির বাবা জয়দেব সরকার ও মা শিল্পী সরকার সরাসরি জানিয়ে দেন, যারা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সমাজকে সচেতন করার কথা, তাদের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা আইনি ব্যবস্থার হুমকি দিলে সাময়িকভাবে ওই শিক্ষিকা পিছু হটলেও পর্দার আড়ালে শুরু হয় ভিন্ন খেলা।

তদবির ও বশীকরণের চাঞ্চল্যকর তথ্য ঘটনার মোড় ঘোরে যখন অভিযোগ ওঠে, মিঠুন কুমিরা এলাকার এক কবিরাজের মাধ্যমে মেয়েটিকে বশ করতে ‘কালো জাদু’ বা তদ্বিরের আশ্রয় নিয়েছেন। এই ঘটনার সাক্ষী জাহাঙ্গীর নামক এক ব্যক্তি। জাহাঙ্গীরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মিঠুন ও তার সহযোগীরা মেয়েটিকে মানসিকভাবে কাবু করতে অশুভ পথ বেছে নিয়েছেন। তবে এই তথ্য সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করায় জাহাঙ্গীরের জীবন এখন সংকটাপন্ন। তাকে এবং তার পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

পেশাদারিত্বের আড়ালে হুমকি ও দম্ভ অনুসন্ধানের জন্য অভিযুক্ত মিঠুন ও দীপঙ্করের সাথে যোগাযোগ করা হলে বেরিয়ে আসে তাদের আগ্রাসী রূপ। মিঠুন তার নিজের এলাকা আশাশুনি হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। অন্যদিকে, শিক্ষিকা অনিমার স্বামী দীপঙ্কর দম্ভভরে দাবি করেন, স্কুলটি তাদের জমিতে প্রতিষ্ঠিত। সংবাদ প্রকাশ করলে ছাত্রীর বাবার ওপর চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

শিক্ষিকার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন একই গ্রামে বাড়ি হওয়ায় মিলি ও তার পরিবার এখন নিজ গ্রামেই পরবাসী। অভিযুক্ত শিক্ষিকা অনিমা নিজের দায় অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও তার নীরবতা এবং তার স্বামীর হুমকি ঘটনার সত্যতাকে আরও জোরালো করেছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, শিক্ষিকা কি তবে তার পদের অপব্যবহার করে নিজের বন্ধুদের স্বার্থসিদ্ধি করছেন?

প্রশাসনের নিরবতা ও জনক্ষোভ এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না আসায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সন্তানদের শিক্ষার জন্য পাঠাই, শিক্ষিকার হাতে হেনস্তা হতে নয়।” বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের তোয়াক্কা না করে একজন সরকারি সুবিধাভোগী শিক্ষিকা এবং তার সহযোগীরা যেভাবে একটি পরিবারকে জিম্মি করেছে, তা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি রাখে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত