
মোঃ ছাবেদুল সরকার পাবনা জেলা প্রতিনিধি।
পাবনাসহ দেশের নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের অকৃত্রিম বন্ধু, মুক্ত সাংবাদিকতার বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখা এবং সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সবসময় সোচ্চার বিশিষ্ট সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমানের আজ জন্মদিন।
তিনি পাবনা জেলার একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক। দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সংবাদপত্র ও টেলিভিশন সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাবনাসহ দেশের মফস্বল সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সৎ, নির্ভীক ও তথ্যনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে তিনি দেশজুড়ে সুপরিচিত।
এবিএম ফজলুর রহমান ১৯৬৯ সালের ৩০ জুন বৃহত্তর পাবনা জেলার বেলকুচি উপজেলার বেড়াখারুয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বেলকুচি উপজেলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক এবং পাবনা জেলা বোর্ডের সাবেক সদস্য নূরুল হুদা মিয়া। মাতা মরহুমা হামিদা খাতুন।
ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতার প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। রংপুর কারমাইকেল কলেজে অধ্যয়নকালে স্থানীয় দৈনিক দাবানল পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। পরে ১৯৮৫ সালে দৈনিক রানার ও দৈনিক নব অভিযান-এর পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে পেশাদার সাংবাদিকতা শুরু করেন।
পরবর্তীতে তিনি দৈনিক দেশ, ইউএনবি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব বাংলাদেশ (এপিবি), দৈনিক যুগান্তর, এনটিভি, দৈনিক সমকাল, ডয়চে ভেলে, রয়টার্স এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক সমকালের পাবনা ব্যুরো প্রধান এবং এনটিভির পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৯৪ সালে তিনি পাবনা থেকে সর্বপ্রথম পিপল ইন্টারেস্টেড প্রেস (পিপ) নামে একটি সংবাদ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যা দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় ৬০০ আঞ্চলিক সংবাদপত্রে সংবাদ সরবরাহ করে আসছে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও বাণিজ্যিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি পাবনা প্রেসক্লাবের একাধিকবার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচিত পরিচালক, এফবিসিসিআইয়ের জেনারেল বডির সদস্য, ক্যাব পাবনা জেলা শাখার সভাপতি, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন, পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর সংবাদ পরিবেশন সবসময় তথ্যনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক। সাংবাদিক জীবনে তিনি অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও তিনি কখনোই পেশাগত আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
ব্যক্তিজীবনে এবিএম ফজলুর রহমান একজন সাদামাটা, মানবিক ও সমাজসচেতন মানুষ। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের উৎসাহ দেওয়া, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চায় তিনি নিয়মিত ভূমিকা রেখে চলেছেন।
২০২৫ সালের ২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর রাশিয়া সরকারের আমন্ত্রণে তিনি মস্কোয় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড অ্যাটমিক উইক-এ অংশগ্রহণ করেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে একজন। তাঁর সহধর্মিণী মাহবুবা রহমান কাজল একজন সাংবাদিক। তিনি ইসলামিক টেলিভিশন ও দৈনিক দেশবাংলার পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের দুই ছেলে—বড় ছেলে এবিএম ফারিব রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত এবং ছোট ছেলে এবিএম ফাইয়াজ রহমান পাবনা স্কয়ার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।
সাংবাদিকতায় তাঁর দীর্ঘ অবদান, পেশাগত সততা, নেতৃত্বগুণ এবং জনস্বার্থে নিরলস কাজের জন্য তিনি সহকর্মী, পাঠক ও সমাজের বিভিন্ন মহলে সমানভাবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র।