
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হাকিমকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং গুরুতর সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানায়।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম, চাঁদাবাজি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ৫ই আগস্টের পরবর্তী সময়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী এসব কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
হাকিমের হাতে নির্যাতিত তার সাবেক বোন জামাই কাজী আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের কাছে তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
“আব্দুল হাকিম শুধু একজন সন্ত্রাসীই নয়, সে আমার সাজানো সংসার তছনছ করে দিয়েছে। আমার বাড়ি লুটপাট করে টাকা আত্মসাৎ করেছে। এমনকি আমার মা ও বোনের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে। তার মারধরে আমি গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম।”
সালাম আরও অভিযোগ করেন যে, তার সাবেক স্ত্রী মঞ্জুয়ারাকে (হাকিমের বোন) বিদেশ পাঠিয়ে সেই উপার্জিত টাকাও হাকিম আত্মসাৎ করেছে। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তাকে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক ডিভোর্স করানো হয়।
বর্তমানে আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানা ও আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দলীয় পদ ব্যবহার করে সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছিল। তার অত্যাচারে অনেকেই এলাকাছাড়া হতে বাধ্য হয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা বর্তমান প্রশাসনের কাছে এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। কাজী আব্দুস সালাম জানান, জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তিনি এলাকায় ফিরতে চান এবং আইনের মাধ্যমে বিচার পেতে চান।