
নিজস্ব প্রতিনিধি।
স্বাস্থ্য নথি অনুযায়ী শারীরিক হামলার প্রমাণ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা,সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দার-এর বিরুদ্ধে তার স্ত্রী মুক্তি সরকার একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগে মারধর, সন্তান নষ্টের চাপ, পরকীয়ায় জড়ানো, দ্বিতীয় বিয়ে করা এবং মানসিক নির্যাতনের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তিনি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মুক্তি সরকারের দাবি, ২০১৬ সালে দুজন দুজনকে পছন্দ করে কোর্ট ম্যারেজ করেন। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ২০২১ সালে হিন্দু রীতিতে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। উভয়েই তখন পড়াশুনা করতেন। বিজয় ছিলেন জেলে পরিবারের দরিদ্র সন্তান। বিয়ের পর মুক্তি চাকরি করে সংসারের ব্যয় চালাতেন এবং উপার্জিত অর্থ স্বামীর হাতে তুলে দিতেন। এছাড়াও মুক্তির পরিবার সাধ্যমতো বিয়েতে নানা উপহার (টিভি, ফ্রিজ, ফার্নিচারসহ যাবতীয় দ্রব্যাদি) দেন এবং বিজয়কে সহযোগিতা করেন। তারপরও বিজয় নানা সময়ে মুক্তির পরিবারের কাছে যৌতুক চাইতেন। এমনিকি বাড়ি করার জন্য জমি লিখে দেয়ার জন্যও চাপ দিয়েছেন বহুবার।
সন্তান নষ্টের অভিযোগ
মুক্তি সরকারের অভিযোগ, বিয়ের পর একাধিকবার গর্ভধারণ করলে স্বামী চাকরির অজুহাত ও ভবিষ্যতের চাপ দেখিয়ে সন্তান নষ্ট করতে বাধ্য করতেন। পরবর্তীতে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলে নানা অজুহাতে তা বিলম্বিত করা হতো। সন্তান ধারণের জন্য গত অক্টোবর মাসে তারা চেন্নাইয়ে ডাক্তার দেখান। পরবর্তীতে ডিসেম্বর ২০২৫ সালে মুক্তিকে একাকে চিকিৎসার জন্য বিজয় কৌশলে চেন্নাই পাঠান। তিনি বলেন-কয়েকদিন পরে ছুটি নিয়ে চেন্নাই যাবেন এবং চিকিৎসার বাকী প্রসেস সম্পন্ন করবেন। কিন্তু বিজয় নানা ছল ছাতুরী করে চেন্নাই যায়নি বরং মুক্তি চলে আসতে চাইলে তাকে বলতেন পরে আসো। ইতোমধ্যে বিজয় অন্য একটি মেয়েক বিয়ে করেন এবং তাকে নিয়ে সংসার শুরু করে। মুক্তি বলেন-
“আমার সুখের সংসার ধ্বংসের পথে ছিল। আমার স্বামী আমাকে বারবার বাধ্য করেছিল সন্তান নষ্ট করার জন্য।”
পরকীয়া ও শারীরিক নির্যাতন
মুক্তি সরকারের অভিযোগ, ভারতে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার সুযোগে বিজয়, ফাগুনি সুমি কাসারি (ফ্যাকাল্টি অব বায়োলোজিকাল সায়েন্স, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) নামের নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান। ওই নারী
মুক্তিকে ফোনে বলেন তিনি বিজয়কে বিয়ে করেছেন। মুক্তি যেন বিজয়কে ছেড়ে চলে যায়। নানা হুমকি দেয়। আরো বলেন সে নাকি বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। ফাগুনী সুমি কাসারির ফোন পয়ে মুক্তি চিকিৎসা না করিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি চেন্নাই থেকে দেশে ফিরে আসেন। ফেরার পর দেখেন স্বামী নিয়মিত ওই নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন ও স্বামী স্ত্রীর মতো আচরণ করেন। বিজয়ও স্বীকার করেন যে তিনি ঐ মেয়েকে বিয়ে করেছেন। মুক্তি এ সব শুননে বিজয়কে ফিরে আসতে বললে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাকে মারধর করে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে বিজয় পালিয়ে যান। এমনকি তিনি অফিসেও আসছেন না। স্থানীয়রা মুক্তিকে উদ্ধার করে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হুমকি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
মুক্তি অভিযোগ করেন, তার মোবাইল ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে এবং পরকীয়ার নারীর পক্ষ থেকে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছেন
“একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি এমন আচরণ করেন, সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমি বিজয়ের শাস্তি চাই। এমন শাস্তি হোক যাতে অন্য কেউ এ ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকে। প্রশাসনের কাছে আমি ন্যায় বিচার চাই”।
অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এই বিষয়ে অভিযুক্ত বিজয় কুমার জোয়ার্দার-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে।