
নিজস্ব প্রতিবেদক,
৫ এপ্রিল, ২০২৬সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংবাদকর্মী এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহর ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ পাল্টা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শহরের নিউ মার্কেট শহীদ আলাউদ্দীন চত্বরে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্তের সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে হয়রানিমূলক মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ৩০ মার্চ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি-সংক্রান্ত বিরোধে সাংবাদিক জিন্নাহর ওপর হামলা চালানো হয়। অফিসের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই মামলা নথিভুক্ত করেছে।
বিশেষ করে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি মেহেদী আলী সুজয়কে মামলায় আসামি করায় বক্তারা একে “সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে অভিহিত করেন।
কল্যাণ ব্যানার্জি, নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রথম আলো।
মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সভাপতি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব।
আসাদুজ্জামান আসাদ, সাধারণ সম্পাদক, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব।
এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহ, প্রতিনিধি, এনটিভি।
গাজী ফারহাদ, প্রতিনিধি, কালবেলা।
মো. হোসেন আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্র।
সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বর্তমানে একটি সিন্ডিকেটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত জিম্মি ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। সরকারি দপ্তরে এই নৈরাজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সমাবেশ শেষে সাংবাদিকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে পুরো জেলাজুড়ে কলম বিরতিসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।