
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় অবস্থিত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘তুবা পাইপ অ্যান্ড ফিটিংস ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর সত্ত্বাধিকারী, কয়েক কোটি টাকার বাৎসরিক আয়কর দাতা ও সফল উদ্যোক্তা মীর শাহীনকে সামাজিকভাবে হেয় করতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র। কোনো প্রকার তথ্য-প্রমাণ বা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ছাড়াই ‘দৈনিক যশোর বার্তা’ পত্রিকা ও ‘দৈনিক সোনার বাংলাদেশ’ নামক নামসর্বস্ব ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক কাল্পনিক ও মানহানিকর সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালা তোয়াক্কা না করে কোনো অভিযুক্তের বক্তব্য ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মূলত ব্যবসায়ী শাহীনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সামাজিক সম্মানে ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় কতিপয় অসাধু ব্যক্তির প্ররোচনায় এই নোংরা খেলায় মেতেছে চিহ্নিত চাঁদাবাজ আল-আমিন সরদার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নের কাশিয়াডাঙ্গী গ্রামের তুব্বাত সরদারের ছেলে আল-আমিন সরদার মূলত একজন চিহ্নিত মাদকসেবী ও এলাকায় ‘গরু চোর’ হিসেবে পরিচিত। শিক্ষাগত যোগ্যতায় এসএসসি পাস না করলেও নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সে জেলার বিভিন্ন দপ্তরে দাপিয়ে বেড়ায়। তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে গ্রেফতার এড়াতে সে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় আত্মগোপন করে বিভিন্ন বেনামি ফোন নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ (০১৬০৮৪৮২৯৭৪, ০১৭৭১৭৫২৩৬১, ০১৩০৯৩৬১৬৭৫) ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের নিকট মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছে।
ব্যবসায়ী মীর শাহীন সাতক্ষীরা জেলায় কয়েকবার শীর্ষ করদাতা ও ভ্যাটদাতা হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের সুনামের সাথে পরিচালিত তার প্রতিষ্ঠান ‘তুবা পাইপ অ্যান্ড ফিটিংস ইন্ডাস্ট্রিজ’ জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি আল-আমিন তার নিকট মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করলে তিনি তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। এরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে আল-আমিন তার নিয়ন্ত্রিত নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টালে কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার শুরু করে। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটেও সে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছে, যার পর্যাপ্ত প্রমাণ এখন প্রশাসনের হাতে।
কথিত ‘দৈনিক যশোর বার্তা’র সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, আল-আমিনকে অনেক আগেই প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এরপরও পত্রিকাটির নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি দিয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ব্যবসায়ী মীর শাহীন বলেন,
“আমি দেশের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক এবং কয়েক কোটি টাকার কর প্রদান করি। আমার প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়েছে। এই চাঁদাবাজ চক্রটি আমাকে সামাজিকভাবে শেষ করতে এবং আমার প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে চায়। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
সাতক্ষীরার সচেতন মহল ও ব্যবসায়ী সমাজ এই ‘হলুদ সাংবাদিকতার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে আল-আমিন সরদারসহ এই চক্রের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।