বিশেষ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার শালকোপা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত নৃশংস হামলায় গুরুতর আহত মঈন উদ্দিন (৩৫) এখনও স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। তার শরীরে দেওয়া হয়েছে ৭৫টি সেলাই। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর অর্থাভাবে বর্তমানে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে। তবে ঘটনার ৩০ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সাফদারপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই তকিবুর রহমান আসামিদের গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছেন। এমনকি আসামি ধরার কথা বলে কয়েক দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা। পাশাপাশি অভিযুক্তদের সঙ্গে ওই পুলিশ কর্মকর্তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাদীপক্ষ। জানা গেছে, কোটচাঁদপুর উপজেলার শালকোপা গ্রামের বাসিন্দা মঈন উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিবেশী সাইফুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে গত ২২ মে রাতে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সাইফুল ইসলাম ধারালো দা দিয়ে মঈন উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মঈন উদ্দিনকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার স্ত্রী লাখী খাতুন (৩০) ও ভাই ইয়াকুব আলী (২৮)ও হামলার শিকার হন। তাদেরকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মঈন উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, যশোরে কয়েকদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর পুনরায় কোটচাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। বর্তমানে শরীরে ৭৫টি সেলাই এবং মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে তিনি অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। মাথার আঘাতের কারণে এখনও স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী লাখী খাতুন বলেন, “আমার স্বামী এখনও মারাত্মক অসুস্থ। শরীরে ৭৫টি সেলাই নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ মামলার এতদিন পার হলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্টো বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা বিচার চাই, কিন্তু পুলিশ তাদের ধরছে না। ফলে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।”এ বিষয়ে সাফদারপুর পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) তকিবুর রহমান বলেন, “আসামি গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে প্রধান আসামি মহিলা হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য মহিলা পুলিশের প্রয়োজন। আমাদের ক্যাম্পে মহিলা পুলিশ না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে থানার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।”অন্যদিকে কোটচাঁদপুর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আনসারুল ইসলাম বলেন, “আসামি গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। মহিলা পুলিশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।