বিশেষ প্রতিনিধি
সৌদি আরবের জুবাইল শহরে প্রবাসী বাংলাদেশি মোঃ বাবুল শেখের রুমে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় নগদ প্রায় ২ লক্ষ ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল, ১০৩ গ্রাম স্বর্ণ, পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরির অভিযোগ
উঠেছে। এ ঘটনায় সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার জয়নগর পোস্টের পানিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ বাবুল শেখ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের জুবাইল শহরে ব্যবসা ও কর্মসূত্রে অবস্থান করছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সৌদি সময় বিকেল ৪টা ২৬ মিনিট থেকে ৫টা ১০ মিনিটের মধ্যে তার রুমে এ চুরির ঘটনা ঘটে।নগদ অর্থ, স্বর্ণ, পাসপোর্ট ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বাবুল শেখ জানান, চুরি হওয়া টাকার বাক্সটির ওজন ছিল প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কেজি। ওই রুমে মোট ৮ জন অবস্থান করতেন। তাদের মধ্যে ৩ জন দূরের কর্মস্থলে ছিলেন। রুমে উপস্থিত ছিলেন আকরাম, আল-মামুন, রাকিবুল ও তিনি নিজে।
তিনি বলেন,
“ঘটনার দিন আকরাম অসুস্থ হয়ে মেডিকেলে যায়। এরপর রাকিবুল রুম থেকে বের হয়। কিছুক্ষণ পরে আমি ও আমার ছেলে বাইরে যাই। বাইরে গিয়ে আকরামের সঙ্গে দেখা হয়। প্রায় ২৫ মিনিট পর রুমে ফিরে দেখি দরজা খোলা এবং টাকার বাক্সসহ সবকিছু নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
বাবুল শেখের দাবি, রুমের চাবি রাকিবুল শেখ ও সাদিকুল মোল্লার কাছেও ছিল। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তার নগদ অর্থ ও স্বর্ণ চুরি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর সৌদি আরবের জুবাইল থানায় একটি সাধারণ অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে নড়াইলের নড়াগাতী এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সালিশে উপস্থিত ছিলেন মোঃ কামাল শেখ, সারিফুল মোল্লা, মোঃ হামিম খান, মোঃ তৌহিদ মোল্লা, মোঃ রসুল খান, ঝিকু মোল্লা ও লাভলু মোল্লা।
এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির করা হয় মোঃ রাকিবুল শেখ, আকাশম শিকদার, ছাদিকুল মোল্লা, মোঃ বায়েজিদ শিকদার, আল মামুন শেখ, মাজহারুল মোল্লা ও বাবুল শেখকে।
সালিশ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও উপস্থিতির ভিত্তিতে রাকিবুল শেখ ও ছাদিকুল মোল্লার বিরুদ্ধে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা কিছু সময় নেওয়ার কথা বলে পরে আর সালিশে হাজির হননি এবং আত্মগোপনে চলে যান।
এ বিষয়ে বাবুল শেখের জামাই বলেন,
“আমি প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে কর্মস্থলে ছিলাম। শ্বশুর ফোন দেওয়ার পর রুমে এসে জানতে পারি, রাকিবুল ও তার সহযোগীরা টাকার বাক্স নিয়ে গেছে।”
অন্যদিকে আকরাম নামের এক রুমমেট বলেন,
“ভাইজান ব্যবসা করতেন এবং ওই বাক্সে অনেক টাকা ও স্বর্ণ ছিল। আমরা বাইরে থেকে ফিরে এসে দেখি দরজা খোলা এবং বাক্স নেই। টাকার বিষয়টি রুমের কয়েকজন জানতেন।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে চুরি হওয়া অর্থ ও মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি সৌদি আরব ও বাংলাদেশ—দুই জায়গাতেই ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
উপস্থিত সকলের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য প্রমানে সাদিকুল ও রাকিবুল ২জনই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে এটাই সরেজমিনে প্রমানিত হয়, আদালত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।