
নিজস্ব প্রতিবেদক
সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ও রমজাননগর এলাকায় পার্শে মাছের পোনা অবৈধভাবে আহরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কৈখালী ফরেস্ট অফিসের স্টেশন অফিসারের (এসও) প্রত্যক্ষ মদদ ও ‘নৌকা প্রতি মাসোহারা’র বিনিময়ে প্রতিদিন সংরক্ষিত বন থেকে পাচার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ মাছের পোনা।
যেভাবে চলছে লুটতরাজ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ১০–১২টি নৌকায় নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে পার্শে মাছের পোনা শিকার করা হচ্ছে। প্রতিটি নৌকা থেকে গড়ে ৮–৯ কেজি পোনা আহরণ করা হয়। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই মাছভর্তি নৌকাগুলো নির্বিঘ্নে কৈখালী ফরেস্ট অফিসের সামনে দিয়ে প্রবাহিত মাদার নদী হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এরপর ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে করে সেই পোনা জেলার বিভিন্ন মাছের বাজারে ও ঘেরে সরবরাহ করা হচ্ছে।
অভিযোগের তীর ফরেস্ট কর্মকর্তার দিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী দালাল চক্রের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি নৌকা থেকে ২ হাজার টাকা করে মাসোহারা নেন কৈখালী ফরেস্ট অফিসের বর্তমান স্টেশন অফিসার। টাকা দিলে মিলছে অবৈধভাবে মাছ ধরার অলিখিত অনুমতি।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন
“ফরেস্ট অফিসের সামনে দিয়ে দিনদুপুরে পোনা পাচার হচ্ছে, অথচ তারা অন্ধ সেজে বসে আছে। নৌকা প্রতি ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাচ্ছি না। বন কর্মকর্তাদের সহায়তা ছাড়া এভাবে সরকারি সম্পদ লুট করা অসম্ভব।”
হুমকিতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্শে মাছের পোনা এভাবে নির্বিচারে ধ্বংস করার ফলে সুন্দরবনের মৎস্য ভাণ্ডার শূন্য হয়ে পড়ছে। আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার এবং পোনা আহরণ দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে স্থানীয় ক্ষুদ্র জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়বে এবং সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দাবি ও প্রতিকার সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সচেতন মহল অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে মাদার নদী ও সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।