নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে বন্দি আজিজ সানা (৪৮) নামে এক হাজতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি এবং স্থানীয়দের অভিযোগ—কারা কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা এবং নির্দিষ্ট কিছু কারারক্ষীর অমানবিক নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে 'মহসিন' নামক এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বন্দিদের ওপর দীর্ঘদিনের পৈশাচিক আচরণের তথ্য সামনে আসছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) মাগরিবের নামাজ চলাকালীন নূরনগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে সাইকেল চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা আজিজ সানাকে আটক করে। পরে শ্যামনগর থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয় এবং আদালতের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১ মার্চ (রবিবার) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আজিজ সানার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কারাবন্দি ও মুক্ত হওয়া একাধিক ব্যক্তি কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কারারক্ষী মহসিন।
অমানবিক নির্যাতন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, কারারক্ষী মহসিন দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ কয়েদি ও হাজতিদের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। মুঠোফোনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, তুচ্ছ কারণেও তিনি বন্দিদের বেধড়ক মারধর করেন।
স্থানীয় প্রভাবের অপব্যবহার অভিযুক্ত মহসিনের শ্বশুরবাড়ি সাতক্ষীরা সদরে হওয়ায় তিনি স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে জেলের ভেতরে নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজিজ সানা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গতকাল ১ মার্চ ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শ্যামনগর থানা পুলিশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর মতে, জেল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তদন্তে অনেক সময় প্রকৃত সত্য আড়াল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই স্থানীয়রা এই মৃত্যুর ঘটনায় জেল কর্তৃপক্ষের বাইরে কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে কারারক্ষী মহসিনের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নির্যাতনের বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।