নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা শহরের এবি ফিলিং স্টেশনে স্বজনপ্রীতির পাশাপাশি বহিরাগত কিছু ব্যক্তির চরম দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে। পাম্পের নিয়মিত স্টাফ নয়—এমন ব্যক্তিদের দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ড্রামে তেল ভর্তি করে পাচারের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, পাম্পটিতে বর্তমানে দায়িত্বরত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কোনো কর্মচারী নন। এসব বহিরাগত ব্যক্তিরা পাম্পে প্রভাব খাটিয়ে তেল সরবরাহ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। পাম্পের নিয়মিত কর্মীদের চেয়ে তাদের কথাতেই সব কিছু পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যা নিয়ে সাধারণ গ্রাহক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তেল পাচার ও অবৈধ মজুত নিয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে এসব বহিরাগত ব্যক্তিদের যোগসাজশে প্রতিনিয়ত ড্রাম ও বড় বড় পাত্রে করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ড্রামে তেল বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলেও, পাম্প কর্তৃপক্ষ তা তোয়াক্কা করছে না। স্থানীয়দের ধারণা, এই বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত করা হচ্ছে অথবা পাচার করে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পাম্পে তেল নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ গ্রাহকদের উপেক্ষা করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পরিচিত এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যদের আগে তেল দেওয়া হচ্ছে।
এক ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছি না, অথচ আমাদের চোখের সামনেই ড্রামে করে তেল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাম্পে এখন কোনো শৃঙ্খলা নেই, বহিরাগতরাই সব নিয়ন্ত্রণ করছে।"
এবি ফিলিং স্টেশনের এই অরাজকতা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। জ্বালানি তেলের মতো স্পর্শকাতর পণ্যের অপব্যবহার এবং নিয়মবহির্ভূত বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।