নিজস্ব প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আখড়াখোলা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণা ও নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ ৫ বছর সংসার করার পর স্ত্রীর একাধিক পূর্ববর্তী বিবাহ এবং বর্তমান পরকীয়া প্রেমের বিষয় জেনে ফেলায় হামলার শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগী স্বামী মোঃ শাহারিয়ার (২৬)। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত স্ত্রী জান্নাতুন নাঈমা (২৬) ও শাশুড়ি রেবেকা বেগম (৪৫) মিলে শাহারিয়ারের নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শাহারিয়ার, পিতা-মোঃ আব্দুল আজিজ (গ্রাম-রাজাপুর, থানা-চৌগাছা, জেলা-যশোর) জানান, আনুমানিক ৫ বছর পূর্বে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক সাতক্ষীরার আখড়াখোলার মৃত সিরাজুল ইসলামের কন্যা জান্নাতুন নাঈমার সাথে তার বিয়ে হয়। শাহারিয়ারের দাবি, বিয়ের সময় নাঈমার পূর্ববর্তী দুটি বিয়ের কথা গোপন রাখা হয়েছিল। ইতিপূর্বে পার্শ্ববর্তী বল্লি গ্রামের শাহিনুর ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সাথেও নাঈমা একই ধরনের প্রতারণা করেছিলেন বলে এখন জানা যাচ্ছে। এমনকি বিয়ের পর নাঈমার প্যারালাইসিস আক্রান্ত পিতার চার বছরের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচও শাহারিয়ার বহন করেছিলেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি রেবেকা বেগমের উস্কানিতে নাঈমা শাহারিয়ারের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নাঈমা সংসারের কোনো কাজ না করে সার্বক্ষণিক মোবাইল ফোনে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে ভিডিও কলে মত্ত থাকতেন। এর প্রতিবাদ করলে গত এক সপ্তাহ আগে ঝগড়ার একপর্যায়ে নাঈমা শাহারিয়ারের জমানো নগদ ৪৫,০০০ (পঁয়তাল্লিশ হাজার) টাকা এবং তার মায়ের ৩.৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (বাজারমূল্য প্রায় ৭ লক্ষ টাকা) নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যান।
গত ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে শাহারিয়ার তার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে রাত ১:৪৫ মিনিটের দিকে নাঈমাকে পুনরায় পরকীয়া প্রেমিকের সাথে ভিডিও কলে আপত্তিকর অবস্থায় কথা বলতে দেখেন। শাহারিয়ার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি শাশুড়ি ও নাঈমার চাচাতো ভাই মোঃ মোখলেছুর রহমানকে ডেকে দেখান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাঈমা ও তার মা শাহারিয়ারের ওপর হামলা করেন। নাঈমা তার হাতে থাকা স্টিলের মগ দিয়ে শাহারিয়ারের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন, যাতে পরবর্তীতে হাসপাতালে ৩টি সেলাই দিতে হয়। এসময় শাশুড়ি রেবেকা বেগম ধারালো দা দেখিয়ে তাকে খুন করার হুমকি দেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেন।
শাহারিয়ার জানান, ঘটনার সময় তিনি ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা নিলেও স্থানীয়ভাবে সঠিক বিচার পাননি। এরপর গত ২৫ মার্চ তাকে কোনো কারণ ছাড়াই তালাক প্রদান করা হয়।
শাহারিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, "আমার জীবনের সব সঞ্চয় ও মায়ের গহনা নিয়ে তারা আমাকে পঙ্গু করার হুমকি দিচ্ছে। দেশে কি পুরুষ নির্যাতনের কোনো বিচার নেই? আমি আইনের আদালতের মাধ্যমে এই প্রতারক মা-মেয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
উক্ত ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মোঃ মোখলেছুর (৩২) ও মোঃ লাল্টু (৪২) সহ স্থানীয় অনেকেই ঘটনাটি জানেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত জান্নাতুন নাঈমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী শাহারিয়ার বর্তমানে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।