রবিউল ইসলাম, তালা উপজেলা ক্রাইম রিপোর্টার
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে এক দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে (১৬) মুদির দোকানের ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্ত তরুণকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সকালে তালা থানাধীন মহান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
আটককৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোঃ রমিন শেখ (২৫)। তিনি তালা উপজেলার মহান্দীর মোঃ হাজের আলী শেখের ছেলে। অন্যদিকে ভিকটিম মোছাঃ সাদিয়া খাতুন মহান্দী প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একই এলাকার সবুর সরদারের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম সাদিয়া খাতুন প্রতিদিনের মতো গত ২২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৬:০০ ঘটিকায় বাড়ি থেকে মহান্দী প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিশ্বজিত স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। সকাল আনুমানিক ৬:২০ ঘটিকায় সে মহান্দী বাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন সাইফুল্লাহর মুদির দোকানের সামনে পৌঁছালে দোকানের ভেতরে থাকা রমিন শেখ তাকে ডেকে থামান।
অভিযোগে প্রকাশ, ভিকটিম দাঁড়ালে অভিযুক্ত রমিন শেখ জোরপূর্বক তার হাত ধরে টেনেহিঁচড়ে দোকানের ভেতরে নিয়ে শার্টার নামিয়ে দেন। এরপর তাকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীর ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।
ভিকটিমের আত্মচিৎকারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন—কামরুল ইসলাম (৫৫), মনিরুল সরদার (৪২) ও শেখ সোহেলসহ (৫৫) অন্যান্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে অভিযুক্ত রমিন শেখকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে থানায় খবর দিলে খলিলনগর পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এলাকাবাসী সূত্রে আরও জানা যায়, এর আগেও ওই বখাটে বিভিন্ন সময় স্কুল যাওয়ার পথে ভিকটিমকে অশালীন কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে ভিকটিমের পরিবার পূর্বে আসামির পিতাকে বিষয়টি জানিয়ে সতর্ক করার অনুরোধও করেছিল।
এ ঘটনায় তালা থানায় আইনগত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা দল ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত