নিজস্ব প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ও নূরনগর এলাকায় সংঘটিত নাশকতা ও সহিংসতার মামলায় উচ্চ আদালতের জামিন শেষে নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে বর্তমান দুই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতা জেলহাজতে প্রেরিত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিরা আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিনের আবেদন জানালে বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে প্রেরিত শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের মধ্যে রয়েছেন— শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শোকর আলী, নূরনগর ইউনিয়ন পরিষদের টানা আটবারের বর্তমান সফল চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহমেদ এবং নূরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান (হবি)। তারা ছাড়াও স্থানীয় ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আরও ৭ জন নেতাকর্মীকে একই সাথে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদালত ও মামলার বিবরণী সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ও নূরনগর এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও না তার অভিযোগে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় বর্তমান দুই ইউপি চেয়ারম্যানসহ এই ১০ নেতাকর্মীকে অন্যতম হুকুমদাতা ও সক্রিয় আসামি করা হয়েছিল। মামলার পর গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিরা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন এবং মেয়াদের পর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশ মোতাবেক গতকাল সোমবার দুপুরে আসামিরা সাতক্ষীরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন স্থায়ী করার আবেদন করেন। শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের বর্তমান রানিং জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনপ্রিয়তার বিষয়টি তুলে ধরে জামিন বহাল রাখার সপক্ষে আইনি যুক্তি পেশ করেন। বিশেষ করে নূরনগর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহমেদের টানা আটবার নির্বাচিত হওয়ার গৌরবোজ্জ্বল রেকর্ড এবং অ্যাডভোকেট শোকর আলীর আইনি ও সামাজিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে জামিনের আর্জি জানানো হয়।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, আসামিরা বর্তমানে দায়িত্বে থাকা প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি হওয়ায় এলাকায় মুক্ত থাকলে মামলার তদন্ত ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিজ্ঞ বিচারক অপরাধের গুরুত্ব ও নথিপত্র বিবেচনা করে জামিন আবেদন নাকচ করে আসামিদের সাজা পরোয়ানা মূলে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে একই মামলায় একসঙ্গে দুই বর্তমান হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধিসহ ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতা জেলহাজতে প্রেরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র শ্যামনগর ও সাতক্ষীরা জেলা সদরের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে আদালত চত্বরসহ সাতক্ষীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং শ্যামনগরের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত