নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ‘রিডা প্রাইভেট হাসপাতাল’ নামের একটি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত’ (ডিএসডি টিভি) এবং এর সম্পাদকের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রিডা হাসপাতালের দুর্নীতির চিত্র আড়াল করতে এবং পত্রিকাটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি চক্র ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট ও ভুল নম্বর ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে ০১৬০৮৪৮২৯৭৪ নম্বরটি ব্যবহার করে কিছু তথ্য আদান-প্রদান দেখানো হয়েছে। দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, উল্লিখিত এই নম্বরটির সাথে পত্রিকার সম্পাদক বা প্রতিষ্ঠানের কোনো স্তরের সংবাদকর্মীর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। মূলত পত্রিকার লোগো ও নাম ব্যবহার করে অন্য একটি নম্বর থেকে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করে সেটিকে ‘সাতক্ষীরা দিগন্ত’-এর নামে চালিয়ে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্যামনগরের রিডা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার নামে চলছে চরম অরাজকতা। ক্লিনিকে আটজন ডাক্তারের তালিকা প্রদর্শন করা হলেও নিয়মিত মাত্র চারজন ডাক্তার উপস্থিত থাকেন। বাকি চারজন ডাক্তারের নাম কেবল কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ। এছাড়া রিডা হাসপাতালের এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই ক্লিনিক পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ প্রফেসরের ছত্রছায়ায় তিনি নানা অপকর্ম করেছেন এবং বর্তমানে ভোল পাল্টে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থনে নিজের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।
রিডা হাসপাতালের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান অভিযোগ হলো রোগী জিম্মি করা। ভুক্তভোগীদের দাবি, এখানে ডাক্তার দেখালে ওই হাসপাতাল থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বাধ্য করা হয়। বাইরের কোনো প্যাথলজি বা ক্লিনিকের রিপোর্ট এখানে গ্রহণ করা হয় না, যা সরাসরি চিকিৎসার নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া জাহিদা নামের এক নারী কর্মীর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গ্রাম্য ডাক্তারদের মোটা অংকের কমিশন প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুল বুঝিয়ে এখানে রোগী নিয়ে আসে।
গত প্রায় সাত মাস আগে দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত (ডিএসডি টিভি) রিডা হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের রক্ত ও বর্জ্য ডাস্টবিনে যত্রতত্র ফেলে রাখার সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করে। সেই সময় থেকেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পত্রিকাটির ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। বর্তমানে সেই ক্ষোভ থেকে এবং সাম্প্রতিক দুর্নীতির তথ্য ধামাচাপা দিতে তারা ‘চাঁদাবাজি’র মতো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত বা বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ তারা হাজির করতে পারেনি।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত-এর সম্পাদক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "যে নম্বরটি (০১৬০৮৪৮২৯৭৪) স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে, তার সাথে আমার বা আমার প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ সাজানো এবং ডিজিটাল জালিয়াতি। সাংবাদিক সহকর্মীদের প্রতি অনুরোধ, কোনো তথ্য যাচাই না করে বা নম্বর নিশ্চিত না হয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াবেন না। আমরা ইতিমধ্যে এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।"
ডিএসডি টিভি কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই অপপ্রচারের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।