মোঃ হাফিজুর রহমান, (হাফিজ)সাতক্ষীরা জেলা ক্রাইম রিপোর্ট
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে অস্ত্র, মাদক ও নাশকতা মামলার সাক্ষী হওয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)-এর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা দুই সহোদর মো. ইদ্রিস আলী ও মো. রওশন আলী।
সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেওয়া ওই আবেদনে তারা দাবি করেন, তারা উভয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি মামলার সাক্ষী হওয়ায় একটি প্রভাবশালী চক্র তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) এবং কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মো. ইদ্রিস আলী অস্ত্র ও মাদক মামলার সাক্ষী এবং কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। অপরদিকে মো. রওশন আলী অস্ত্র ও মাদক মামলার সাক্ষী, কালিগঞ্জ থানার নাশকতা মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী এবং কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
আবেদনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ ২০২৬ রাতে র্যাব-৬ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কথিত ডাকাত সর্দার ইয়ার আলী তরফদার বিদেশি পিস্তল, ওয়াকিটকি ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন। ওই অস্ত্র ও মাদক মামলার জব্দ তালিকায় তারা উভয়েই সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তের সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ, প্রাণনাশের হুমকি, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি শুরু হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, ১২ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নাশকতার একটি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া কালিগঞ্জ থানার মামলা নং-১৩ (তারিখ: ১৩ জুন ২০২৬)-এ তারা প্রত্যক্ষ সাক্ষী। তাদের দাবি, বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপি কার্যালয়ের দরজায় আগুন জ্বলতে দেখে তারা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত উদ্ধার করলে তারাও সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, উভয় মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার পর থেকে পলাতক আসামি ও তাদের সহযোগীরা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। তারা নাশকতা মামলার বাদী রেজাউল করিম এবং আবেদনকারী দুই ভাইকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি, প্রাণনাশের হুমকি এবং পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উল্লেখ করে উক্ত নাশকতা মামলার আসামি, ইয়াবা কারবারি মো. তৌফিক আলম রায়হান-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছেন বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। আবেদনকারীদের অভিযোগ, তিনি তাঁর প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের সহযোগিতা করা, মামলায় অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দায়েরের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় আবেদনকারীদের ওপর অব্যাহতভাবে ভয়ভীতি, চাপ সৃষ্টি ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, ডাকাত ইয়ার আলী, বাহার আলী, রেজাউল, রফিকুল ও বিল্লাল গ্রেপ্তারের পর তাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত আলোচিত 'টেমি' মোঃ হাফিজুর রহমান পিতা: মৃত এলাইবাক্স গাজী, সাং: বাজার, থানা: কালিগঞ্জ-এর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এবং নাশকতা মামলার আসামিরা বাদী ও দুই সাক্ষীকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মো. তৌফিক আলম রায়হান পূর্বে পজেশনসহ দোকানঘর বিক্রির মাধ্যমে আবেদনকারীদের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা করেছেন। বর্তমানে তিনি ওই দোকানঘর অবৈধভাবে দখলে রেখে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, মামলা এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ অবস্থায় আবেদনকারীরা মহাপরিদর্শক (আইজিপি)-এর কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ ও গুরুত্বসহকারে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হুমকি ও হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, তাদের ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর সকল অপচেষ্টা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মেহেদী হাসান,মোবাইল-০১৭৪৫-০৫৪৯৯৮
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত