নিজস্ব প্রতিবেদক
একজন পেশাদার সাংবাদিক, যিনি সমাজ ও মানুষের অধিকার নিয়ে কলম ধরেন, আজ তিনিই নিজ ঘরে এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার। স্ত্রী মুন্নি রহমানের দীর্ঘ তিন বছরের গোপন পরকীয়া, সাবেক স্বামী জেমসের সাথে যোগসাজশ এবং একের পর এক লোমহর্ষক প্রতারণার কাহিনি এখন জনসমক্ষে। ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান এই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ তালাক ও বিবাহ নিবন্ধন আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালে যখন মুন্নি রহমান এবং তার শিশু সন্তান জেমি চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছিলেন, তখন মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক খাতিরে তাদের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য যে, মুন্নির সাবেক স্বামী জেমস ইতিপূর্বে তার কন্যা সন্তানকে অস্বীকার করেছিলেন এবং দেনমোহরের অর্থ পরিশোধ না করেই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সংকটকালীন সময়ে মোস্তাফিজুর রহমান মুন্নিকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।
অভিযোগে জানা যায়, বিগত ৫ বছরের বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে শেষ ৩ বছর ধরে মুন্নি রহমান তার সাবেক স্বামী জেমসের সাথে গোপনে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। সম্প্রতি জেমসের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে পহেলা বৈশাখে 'রকিং চেয়ার' উপহার দেওয়া এবং বিশেষ পার্টির ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ফাঁস হওয়ার পর এই দীর্ঘমেয়াদী প্রতারণার বিষয়টি মোস্তাফিজুর রহমানের সামনে আসে। ভুক্তভোগীর দাবি, জেমসের প্ররোচনায় ও পরিকল্পনায় মুন্নি গত ৩ বছর ধরে তার ওপর শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, তাদের এই অবৈধ সম্পর্কের পথে বাধা সরাতে এবং তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে মুন্নি ও জেমস একজোট হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছেন। সাংবাদিক হিসেবে তার দীর্ঘদিনের অর্জিত জনপ্রিয়তায় আঘাত করতে এবং তার বৃদ্ধা মা ও কলেজপড়ুয়া কন্যাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। এমনকি বিগত সরকারের আমলে জেমসের মদদে মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশ বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইনের বিধিমালা এবং দণ্ডবিধির ৪৯৭ (ব্যভিচার) ও ৪২০ (প্রতারণা) ধারার উল্লেখ করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "আমি আমার জীবনের মূল্যবান পাঁচটি বছর তাদের জন্য বিসর্জন দিয়েছি। অথচ তারা আমার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আমার জীবন ও সম্পদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। আমি এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং পরকীয়া সম্পর্কের মাধ্যমে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি করার প্রমাণাদি (যেমন: ফেসবুক পোস্ট, উপহারের ছবি, সাক্ষ্য) সঠিক থাকে, তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান তার হারিয়ে যাওয়া সামাজিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং প্রতারকদের শাস্তির দাবিতে আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে।
জেমসের প্রোফাইল থেকে পাওয়া ছবি, ভিডিও এবং মুন্নির দেওয়া গালিগালাজ বা হুমকির স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডগুলো একাধিক ব্যাকআপে সংরক্ষণ করুন।
আপনার প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা অপপ্রচারের বিষয়ে নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) বা সরাসরি অভিযোগ দায়ের করুন।
তারা যেহেতু অনলাইনে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাই সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তা নিতে পারেন।
একজন অভিজ্ঞ ফৌজদারি আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের দুজনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এটি আপনার আইনি লড়াইয়ের প্রথম শক্তিশালী পদক্ষেপ হবে।